সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ছবি তোলার কথা ছিল। আমকাই ছবির বিষয়বস্তু হয়ে গিয়েছেন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় গোল করার পর তাঁর উপরেই ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন ক্রোটরা। সেলিব্রেশনের সে উচ্ছ্বাস ক্যামেরাবন্দি করে রেখেছে গোটা বিশ্ব। আর ছবির ফ্রেমে ঢুকে পড়েছেন এই চিত্র-সাংবাদিকও।
তা কে ইনি?

যে চিত্রসাংবাদিকের ছবি আজ প্রায় গোটা বিশ্বের ফটোগ্রeফারদের মেমরি কার্ডে, তিনি এএফপি-র জুরি কোর্টেজ, মেক্সিকোর বাসিন্দা। খেলা তখন অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়েছে। মরিয়া চেষ্টা করছে দু’দলই। ক্রোয়েশিয়া প্রতি মুহূর্তে ফালাফালা করছে ইংল্যান্ড রক্ষণ। অদৃশ্য এক ভরকেন্দ্রের উপর দাঁড়িয়ে তখন ম্যাচের ভাগ্য। আচমকাই গোল চলে আসে। মান্দজুকিচের শট জালে জড়িয়ে যেতেই ক্রোটরা বুঝে যান, ইতিহাসের চৌকাঠ পেরনো সময়ের অপেক্ষা মাত্রা। সে মুহূর্তে উচ্ছ্বাস কোনও সীমা মানে না। বাঁধনছাড়া আনন্দে মান্দজুকিচ দৌড়ে চলে গিয়েছিলেন ফ্যানদের সামনে। সামনেই দাঁড়িয়েছিলেন কোর্টেজ। সেই আনন্দের মুহূর্তে আর দ্বিতীয় কোনও ভাবনার পলটুকুও বোধহয় ছিল না মান্ডজুকিচের হাতে। ওই ফটোগ্রাফারের সামনেই ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি, একে একে তাঁর উপর এসে পড়েন অন্যান্য ক্রোট খেলোয়াড়রা। একটা সময় দেখা যায় ঘন নীল জার্সির ঢেউয়ে প্রায় চাপা পড়ে গিয়েছেন ওই চিত্র-সাংবাদিক। কোনওক্রমে নিজের ক্যামেরাটিকে সামলাচ্ছেন। এই মুহূর্তেই আবার রাকিতিচ, ভিদারা তাঁকে তুলে ধরেন। খেলোয়াড়দের মতো, তখন মুখে চওড়া হাসি কোর্টেজেরও। তিনি হয়তো তখনও জানেন না যে, ক্রোটদের সেলিব্রেশনে উচ্ছ্বাসের বাঁধানো ফ্রেমে তিনিও ততক্ষণে ঢুকে পড়ছেন।
[ দ্বিতীয় গোল হতেই ভাঙচুর শুরু লন্ডনে, হেরে তাণ্ডব ইংরেজদের ]
যদিও এতকিছুর মধ্যেও নিজের স্বধর্ম থেকে সরে আসেননি তিনি। ওই অবস্থাতেও খেলোয়াড়রদের সেলিব্রেশনের বেশ কিছু ক্যান্ডিড ছবি তুলতে পেরেছেন তিনি। তাঁর ছবি নিশ্চিতই তাঁর সংস্থার কাজে লাগছে। তবে গোটা বিশ্বকে এদিন আশ্চর্য এক ছবি উপহার দিয়ে গিয়েছেন এই ছবিওয়ালাই।