সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বড় মঞ্চে প্রথমবার। কী করবেন তিনি? একটা আশঙ্কা তো ছিলই। কিন্তু বাংলার মেহুলি ঘোষ সবাইকে চমকে দিলেন। মেক্সিকোয় বিশ্ব শুটিং সংস্থার তরফ থেকে আয়োজিত বিশ্বকাপে আগের দিনই অভিষেক ঘটেছিল তাঁর। ১০ মিটার এয়ার রাইফেল বিভাগে রেকর্ড গড়ে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন তিনি। এবার মিক্সড ডাবলসেও একই ফর্ম ধরে রাখলেন। এই ম্যাচেও ব্রোঞ্জ জিতলেন বাংলার এই মেয়ে।আইএসএসএফের (ইন্টারন্যাশনাল শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশন) বিশ্বকাপে সময় বেশ ভালই গেল ভারতের। আগের দিন রেকর্ড গড়ে সোনা জিতেছেন শাহজার রিজভি। পাশাপাশি এসেছিল দু’টো ব্রোঞ্জ। মেহুলি ছাড়াও জিতু রাই এই পদক পেয়েছিলেন। তারপর আবার। মিক্সড ডাবলসে দীপক কুমারের সঙ্গে জুটি বেঁধে নেমেছিলেন মেহুলি। সেখানেই টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ব্রোঞ্জ জেতেন তিনি। জয়দীপ কর্মকারের অ্যাকাডেমির ছাত্রী মেহুলি। ছাত্রী পদক জয়ের পরেই তিনি যা সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়ে দেন। সঙ্গে জানিয়েছেন, “মাত্র ১৭ বছরের একটা মেয়ে এমন টুর্নামেন্টে দু’টো পদক জিতল। ব্যাপারটা স্পেশাল।”
[শুটিং বিশ্বকাপে ব্রোঞ্জ জিতে ইতিহাস বাংলার ‘বিস্ময়’ কিশোরী মেহুলির]
উল্লেখ্য, মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায় চলতি শুটিং বিশ্বকাপে মহিলাদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেল বিভাগের ফাইনালে ২২৮.৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে শেষ করেন মেহুলি। বছর খানেক আগে জুনিয়র শুটার হিসেবে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সেরার শিরোপা পেয়েছিলেন। তারপর ফের বিশ্ব দরবারে বাংলার মুখ উজ্জ্বল করলেন মেহুলি। সামনেই কমনওয়েলথ গেমসে অংশ নেওয়ার কথা তাঁর। সেই কারণে বিশ্বকাপকেই প্রস্তুতি মঞ্চ হিসেবে দেখছিলেন। তবে সেখানে যে এমন কীর্তি গড়বেন তিনি, তা অনুমান করতে পারেননি কোচও। বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছিল, মেহুলি কি পদক জিততে পারবে? উত্তরে কোচ জয়দীপ কর্মকার বলেছিলেন, “পদক জিতবে এটা আশা করা অন্যায়। এই প্রথম সিনিয়র ইভেন্টে নামবে। তাই পদক নিয়ে ভাবছি না। প্রথম ৩০ জনের মধ্যে থাকতে পারলেই হল।” তাই শিষ্যা পদক জেতায় বাকরুদ্ধ কোচ। মেহুলি অসাধ্যসাধন করেছে বলেই মানছেন তিনি। প্রথম দিনই মেহুলির দশ মিটার ইভেন্ট ছিল। তবে তার আগে প্র্যাকটিসের খুব বেশি সময়ও পায়নি। তা সত্ত্বেও এমন সাফল্যে তাঁর এলাকায় খুশির বাঁধ ভেঙেছে। কমনওয়েলথের আগে এই জোড়া পদক জয় নিঃসন্দেহে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলে মনে করছেন কোচ।