সোম রায়: এশিয়ান প্যারা গেমস, বিশ্ব প্যারা অ্যাথলেটিক চ্যাম্পিয়নশিপ হোক বা প্যারা অ্যাথলেটিক গ্রাঁ প্রি অথবা প্যারা অলিম্পিক। ২০১০ থেকে ২০১৮। যে মিটেই নেমেছেন, দেশকে এনে দিয়েছেন কোনও না কোনও পদক। প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসাবে দেশের ঝুলিতে এনে দিয়েছেন প্রথম প্যারা অলিম্পিক পদক। সেই দীপা মালিককে এখন থেকে পাওয়া যাবে নতুন ভুমিকায়।
আর কোনও মিটে বা ট্র্যাকে নয়। এবার থেকে রাজনীতির ময়দানে দেশের সেবা করবেন হরিয়ানার দীপা। হরিয়ানা রাজ্য বিজেপি দপ্তর থেকে ফোনটা এসেছিল রবিবার। বলা হয়, তাঁকে দলে নিতে চায় গেরুয়া শিবির। প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেননি। স্বামী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল বিক্রম সিং ও দুই মেয়ের সঙ্গে আলোচনার পরই নিয়ে নেন বিজেপি যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত। সোমবার সরকারিভাবে তিনি তুলে নেন গেরুয়া ঝান্ডা। হরিয়ানার বিজেপি সভাপতি সুভাষ বারালা, সাধারণ সম্পাদক অনিল জৈন এবং সন্দীপ যোশী ও অনিল বালোনির উপস্থিতিতে তাঁকে বিজেপির উত্তরীয় পড়িয়ে বরণ করেন বিজেপি সম্পাদক অমিত শাহ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির থাকার কথা থাকলেও অন্য কাজে আটকে যাওয়ায় তিনি নির্দিষ্ট সময়ে এসে পৌঁছতে পারেননি।
[আরও পড়ুন: টাকা নেই, জার্সি বেচে নির্বাচনী লড়াইয়ে ‘পাহাড়ি বিছে’ বাইচুং]
দিনের বাকি সময় কেটেছে চূড়ান্ত ব্যস্ততায়। থেকে থেকে বেজে উঠেছে মোবাইলের রিং। একের পর এক ইন্টারভিউ দিতে হয়েছে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। কলকাতা থেকে ফোন পেয়েই উৎফুল্ল হয়ে পড়লেন। বললেন, “রিও থেকে পদক পাওয়ার পর প্রত্যেককে প্রশংসা করেছে। কিন্তু কলকাতা থেকে যে সম্মান আমি পেয়েছি, তা নিজের রাজ্যেও পাইনি।” একটু পরই বলে ফেললেন তাঁর প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কারণ। পালটা প্রশ্ন করে বললেন, “কেন বিজেপিতে যোগ দেব না বলুন তো? আমি একজন প্রতিবন্ধী। অথচ আমাদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রী নতুন একটা বিশেষণ যোগ করলেন। এখন আমাদের দিব্যাঙ্গ বলা হয়। এর পাশাপাশি আমি একজন স্পোর্টসপার্সন। মোদি সরকার আমাদের দিব্যাঙ্গ ও ক্রীড়াবিদদের জন্য যা করেছে, এর আগে কেউ ভাবেওনি। এই যে এখন এত এত পদক আসছে, এই কারণেই। এছাড়া আমি একজন মহিলা। দুই মেয়ের মা। আমাদের হরিয়ানায় কন্যাসন্তান জন্মালে আগে সবাই নাক কুঁচকাত। মোদিজিকে দেখুন। উনি বারবার বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও বলে বলে সবার মনে একটা নতুন চিন্তাভাবনার জন্ম দিয়েছেন। তাছাড়া আমার নিজের বাড়ি ও শ্বশুরবাড়ির সবাই সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত। প্রধানমন্ত্রী দেশের নিরাপত্তায় যে কোনও আপস করেন না, তা দু’টি সার্জিক্যাল স্ট্রাইকেই প্রমাণিত। এতগুলো কারণ আছে আমার বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পিছনে।”
সামনেই নির্বাচন। ধরেই নেওয়া হচ্ছে তাঁকে কোনও কেন্দ্রে প্রার্থী করবে বিজেপি। তবে যেহেতু এখনও দলের থেকে সরকারিভাবে কিছু বলা হয়নি, তাই এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাইলেন না। শুধু বললেন, “আমি একজন ক্রীড়াবিদ। যে কোনও সময়, যে কোনও পরিস্থিতিতে দল যা দায়িত্ব দেবে। করতে প্রস্তুত। আমার আসল লক্ষ্য দেশের সেবা করা। এতদিন স্পোর্টসে করেছি। এবার তা সরাসরিভাবে করব।” ছোট্ট হুইলচেয়ারে চেপে দেশকে এনে দিয়েছেন একের পর এক সম্মান। দেখার শুধু নতুন ভুমিকায় কতটা সফল হতে পারেন তিনি।
[আরও পড়ুন: জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার গম্ভীর]