সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আশঙ্কার কথা আগেই জানানো হয়েছিল। এবার তা আরও স্পষ্ট হয়ে গেল। আগামী বছর যদি টোকিওতে অলিম্পিকের আসর না বসে, তাহলে এবারের মতো বাতিলই করে দেওয়া হবে এই ইভেন্ট। জানিয়ে দিলেন আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (IOC) প্রধান থমাস ব্যাচ।
আধুনিক অলিম্পিকের ১২৪ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার ১ বছর পিছিয়ে গিয়েছে টুর্নামেন্ট। গত ৩০ মার্চ জল্পনার অবসান ঘটে। টোকিও অলিম্পিকের নয়া দিনক্ষণ ঘোষণা করেছিল আইওসি। জানানো হয়েছিল, আগামী বছর ২৩ জুলাই শুরু হবে অলিম্পিক। শেষ ৮ আগস্ট। সঙ্গে এও বলা হয় যে অলিম্পিকের ক্রীড়াসূচিতে কোনও কাটছাঁট করা হবে না। কিন্তু করোনা যেভাবে বিশ্বজুড়ে তার দাপট দেখিয়ে চলেছে, তাতে নতুন করে তৈরি হয় জটিলতা। আগামী বছরও অলিম্পিক আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। অলিম্পিক কমিটির প্রেসিডেন্ট ইয়োশিরো মোরি বলেছিলেন, “এই ভাইরাসকে যদি আমরা হারাতে পারি তাহলে আগামী গ্রীষ্মে অলিম্পিক হবে। নাহলে খুবই কঠিন। আমি বলছি না যে গেমস হওয়া উচিত নয়। কিন্তু পরিস্তিতি না বদলালে আমরা বাতিল করতে বাধ্য হব। আর ২০২২ পর্যন্ত গেমস কোনওভাবেই পিছিয়ে দেওয়া যাবে না।” তাঁর সেই মন্তব্যই এবার আরও বেশি স্পষ্ট করে দিলেন আইওসি প্রধান।
[আরও পড়ুন: বর্ষার পর বিদেশিদের নিয়ে হতে পারে IPL! বোর্ড সিইওর মন্তব্যে জাগছে আশা]
থমাস বলেন, “বিশ্বজুড়ে প্রতিবছরই ক্রীড়াসূচিতে বদল ঘটে। তাই একটা করে বছর পিছিয়ে দিয়ে অলিম্পিক আয়োজন করা কঠিন। আয়োজক কমিটিতে আজীবন তিন বা পাঁচ হাজার কর্মী রেখে দেওয়ায় সম্ভব নয়। তাই পরিস্থিতিটা বুঝতে হবে।” সঙ্গে যোগ করেন, আগামী বছরই যাতে অলিম্পিক আয়োজন করা যায়, তার যথাসাধ্য চেষ্টা করছে কমিটি। কিন্তু অ্যাথলিটদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা থেকে নানা বিষয়ের জন্য তৈরি থাকতে হবে। পরের বছর ২৩ জুলাইয়ের সময়টায় পরিস্থিতি কেমন থাকে দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এবছর অলিম্পিক শুরু হওয়ার কথা ছিল ২৪ জুলাই। কিন্তু করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের জন্য তা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জাপানবাসীর দাবি ছিল, অলিম্পিকের জন্য হাজার হাজার মানুষ সে দেশে গেলে তাঁদের সঙ্গে করোনাও ছড়িয়ে পড়তে পারে। কারণ, প্রশাসনের পক্ষে এত মানুষের দিকে নজর রাখা সম্ভব নয়। করোনার জেরে বিশ্বের বৃহত্তম স্পোর্টিং ইভেন্ট বাতিল করার দাবি জানাচ্ছিল অংশগ্রহণকারী দেশগুলিও। সেই সব দাবি মেনেই অলিম্পিক স্থগিতের কথা ঘোষণা করা হয়।