সোম রায়, ভুবনেশ্বর: জামশেদপুরের বিরুদ্ধে ম্যাচে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছিলেন গোয়ার তিন ফুটবলার। পরের দুটি ম্যাচের জন্য নির্বাসিত করা হয়েছে ব্রুনো, সের্জিও এবং ব্র্যান্ডনকে। ফলে সুপার কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জিতলেও শেষ চারের লড়াই নিয়ে বেশ চিন্তায় গোয়া কোচ। রবিবার তাঁর চোখে মুখে সেই চিন্তার ছাপ বেশ স্পষ্ট। তাঁর অবস্থা অনেকটা হারাধনের মতো। দলে এক এক করে ছেলের সংখ্যা কমেই চলেছে। আর সেটাই অ্যাডভান্টেজ ইস্টবেঙ্গলের।
[ঝুলিতে সর্বমোট ৬৬টি পদক, কমনওয়েলথে তিন নম্বরে শেষ করল ভারত]
তিন ফুটবলার লাল কার্ড দেখে বাইরে। অন্য দুই ফুটবলার আবার দুটো হলুদ কার্ড দেখায় পরের ম্যাচে মাঠে নামতে পারবেন না। অর্থাৎ ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে নেই পাঁচ ফুটবলার। কিন্তু সমস্যা এখানেই মিটছে না। কারণ এবার ২৫ জনের পরিবর্তে ২৩ জনের রেজিস্ট্রেশন করিয়েছে গোয়া। তার মানে হাতে থাকা ১৮ জন ফুটবলারকে নিয়ে দল সাজাতে হত কোচকে। তাতেও অসুবিধা হত না। কিন্তু গোয়া শিবির বিপাকে পড়েছে এই ১৮ জনের মধ্যে চারজনের চোট আঘাত থাকায় এবং চারজন অসুস্থ হওয়ায়। অর্থাৎ দল সাজানোর জন্য কোচ ডেরেক পেরেরার হাতে রইল পেনসিল, থুড়ি ১০ জন ফুটবলার। তাঁদের মধ্যে আবার দু’জন গোলকিপার। স্বাভাবিকভাবেই এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এই অবস্থা ভাবাচ্ছে গোটা শিবিরকে। তবে হারার আগে হারতে নারাজ গোয়া। কোচ সাফ বলছেন, “ছেলেদের বলেছি, এসব ভেবে ফোকাস নষ্ট না করতে। যারা রয়েছে তারাই লড়বে।” দলে ফুটবলারের অভাব। তাই শনিবার দুই গোলকিপারের জন্য আউটফিল্ড জার্সিও নাকি তৈরি করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রয়োজনে যে কোনও একজনকে ফুটবলার হিসেবে নামতে হতে পারে।
[চিরায়ত ময়দানি রেওয়াজে বারপুজো, বর্ষবরণ মোহনবাগানে]
গোয়া শিবিরের এমন ছবি স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তি দিচ্ছে ইস্টবেঙ্গলকে। তবে প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিতে নারাজ খালিদ জামিল। তিনি মানতে রাজি নন, যে এর জন্য অ্যাডভানটেজ পেয়েছে লাল-হলুদ শিবির। বলছেন, “যে পাঁচজন ফুটবলার কার্ড সমস্যায় নেই তাঁদের বিরুদ্ধে তো আমরা স্ট্র্যাটেজি বানিয়ে ফেলেছিলাম। এবার ওদের জায়গায় অন্য কেউ খেলবে। ফলে নতুন করে ছক কষতে হবে। তাই আমরা অ্যাডভানটেজ পেয়েছি ভাবার কোনও কারণ নেই।” এদিকে আইজলের বিরুদ্ধে ম্যাচে ডুডু মেজাজ হারানোর পর থেকে সমালোচিত হচ্ছেন ফুটবলমহলে। তবে এমন অবস্থায় তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন সতীর্থ এডুয়ার্ডো। বলে দিচ্ছেন, “ও আমাদের দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। দলের অন্যতম স্কোরার। ডুডুকে নিয়ে এত বিতর্ক কেন? যাইই হোক, আমরা ওর পাশে আছি।”