সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পাকিস্তানকে কাঠগড়ায় তুলেই কাশ্মীর সমস্যা মোকাবিলায় বিরোধিতার যাবতীয় সমালোচনার জবাব দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং৷ সাফ বুঝিয়ে দিলেন, এই আপৎকালীন পরিস্থিতিতে নিজেদের মধ্যে বিরোধিতার অর্থ পরোক্ষে পাকিস্তানের হাত শক্ত করা৷
(চিন সীমান্তে ব্যাপক ফৌজি প্রস্তুতি ভারতের)
বৃহস্পতিবার লোকসভায় কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে আলোচনার জবাবি বক্তৃতায় রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে রাজনাথ বলেন, “ধর্মের নামে আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র কাশ্মীরে অশান্তি ছড়ানোর চক্রান্ত করছে৷ ওদের যাই অশুভ পরিকল্পনা থাকুক না কেন, তা কোনওমতেই সাফল্য পাবে না৷ নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা মেটানোর বদলে ওরা কাশ্মীরে আগুন জ্বালাতে চাইছে৷”
তবে বিক্ষোভ মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনীর পেলেট গান-এর ব্যবহার নিয়ে বিরোধীদের লাগাতার আক্রমণ সরকারকে যে চাপে ফেলেছে তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে এদিন৷ রাজনাথ ঘোষণা করেন, এতদিন পেলেট গান, টিয়ার গ্যাস বা জলকামানের মতো ‘নন-লিথাল উইপন’-এর তালিকাতেই ছিল৷ কিন্তু এখন প্রচুর অভিযোগ পাওয়ায় একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র৷ তারা যেমন পেলেট গানের ব্যবহারের খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখবে, তেমনই বিক্ষোভ মোকাবিলায় বিকল্প কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা যেতে পারে তা নিয়েও ভাবনা-চিন্তা হবে৷ ২ মাসের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে রিপোর্ট জমা দেবে এই কমিটি৷
কী এই পেলেট গান?
পেলেট অনেক ধরনের হয়। সাধারণত ছোট ছোট বিয়ারিংয়ের বলের মতো দেখতে হয় এদের। কার্তুজের ভিতরে প্রায় কয়েকশো এ রকম ছোট ছোট বল থাকে। ফায়ারিংয়ের পর কার্তুজের খোল ফেটে গিয়ে বলগুলি গিয়ে শরীর ভেদ করে ঢুকে যায়। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এতে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। ছোট ছোট বলের মতো হওয়ায় অস্ত্রোপচার করে তাদের বের করতেও সমস্যা হয়। বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর অশান্ত উপত্যকাকে শান্ত করতে যে ধরনের পেলেট গান ব্যবহার করা হয়েছে সেই পেলেটগুলো গোলাকৃতি নয়, খাঁজকাটা। আরও মারাত্মক।
তবে কোনও পরিস্থিতিতেই পেলেট গান ব্যবহারের একক দলগত দায় নিতে চাননি রাজনাথ৷ বরং স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ২০১০ সাল থেকেই কাশ্মীরে বিক্ষোভ মোকাবিলায় পেলেট গানের ব্যবহার শুরু হয়েছিল৷ সংসদে অধিবেশন শুরুর আগে থেকেই কাশ্মীর নিয়ে আলোচনার দাবিতে সরব হয়েছিল প্রায় সব বিরোধী দল৷