সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: রুশ বাণিজ্যের জেরে ভারতের উপর ফের শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সে হুঁশিয়ারিকে বিশেষ পাত্তা না দিয়ে এবার রাশিয়া সফরে গেলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। ভারত-মার্কিন সংঘাতের মাঝেই বন্ধু রাষ্ট্রে ডোভালের এই সফর যথেষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ। অনুমান করা হচ্ছে, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিকে কার্যত কাঁচকলা দেখিয়ে এই সফরে খনিজ তেল কেনা নিয়ে বড় চুক্তি হতে পারে রাশিয়ার সঙ্গে।
জানা গিয়েছে, এই সফর পূর্ব নির্ধারিত ছিল। সেইমতোই মঙ্গলবার রাতে মস্কোয় পৌঁছন অজিত ডোভাল। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারত ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা। তবে ভারত-রুশ বাণিজ্য নিয়ে সাম্প্রতিক মার্কিন গোঁসা এই সফরকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করেছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, “বাণিজ্যের জন্য ভারত ভালো অংশীদার নয়। তারা আমাদের সঙ্গে যথেষ্ট বাণিজ্য করে। কিন্তু আমরা তাদের সঙ্গে বাণিজ্য করি না। তাই ভারতের উপর আমরা ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিলাম। কিন্তু আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে তা বৃদ্ধি করা হবে। কারণ, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কিনছে এবং তারা ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে রাশিয়াকে সাহায্য করছে।” পালটা প্রতিক্রিয়ায় ভারতও জানিয়ে দিয়েছে, ভারতকে নীতি ধর্ম শেখাতে আসা আমেরিকা নিজেই রাশিয়া থেকে বিপুল পণ্য আমদানি করে।
এই ডামাডোলের মাঝেই ডোভালের এই সফর প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যম সূত্রের জানা যাচ্ছে, রাশিয়ার সঙ্গে তেল আমদানি নিয়ে বড় চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেখানে ভারতের তেল আমদানির ক্ষেত্রে আরও বেশি পরিমাণ ছাড় দিতে পারে মস্কো। আমেরিকা ভারতের উপর শুল্ক ঘোষণার পর রাশিয়া ট্রাম্পকে বিশ্বে কোণঠাসা করার চেষ্টা চালাচ্ছে। রাশিয়ার তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে কোনও দেশের হস্তক্ষেপে ভারত-রুশ সম্পর্ক দুর্বল হবে না। এহেন পরিস্থিতির মাঝে ডোভালের সফরের ভারত-রাশিয়া কূটনৈতিক বৈঠকের দিকে বাড়তি নজর বিশ্বের। এদিকে চলতি মাসের শেষে রাশিয়া সফরের কথা রয়েছে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরের।
এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ভারতের পরোক্ষ মদতের যে অভিযোগ তুলেছে তার জবাবও দিয়েছে নয়াদিল্লি। বিদেশমন্ত্রকের তরফে বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে, রাশিয়া ও ইউরোপের বাণিজ্য তালিকায় শুধু তেল বা গ্যাস নয়, সার, খনিজ, রাসায়নিক, লৌহ ইস্পাত-সহ আরও বহু পণ্য আমদানি করে। এই তালিকায় শুধু ইউরোপ কেন খোদ আমেরিকাও বিপুল পণ্য আমদানি করে। তারা নিজেদের পারমাণবিক কার্যকলাপের জন্য রাশিয়ার থেকে ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লোরাইড কেনে। বৈদ্যুতিন গাড়ি শিল্পের জন্য প্যালাডিয়াম, সার ও রাসায়নিক আমদানি করে।