সুকুমার সরকার, ঢাকা: ফের বিপাকে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। দু’টি মানহানি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি ওই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ৫ জুলাই। যদিও খালেদার আইনজীবী ওই দু’টি মামলাতেই তাঁর জামিনের আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে বেগম জিয়ার আইনজীবী উল্লেখ করেছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে এখন খালেদার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
[‘জামাতের সঙ্গে সম্পর্ক নেই’, জানালেন খালেদার ব্রিটিশ আইনজীবী]
বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর আদালত এই পরোয়ানা জারি করে। আগেই জিয়া অরফানেজ দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন বেগম জিয়া। এবার আরও বাড়ল তাঁর বিপদ। চলতি বছরের শেষের দিকের বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে সাধারণ নির্বাচন। এই পরিস্থিতে নেত্রী জেলে থাকে এমনিতে বিপাকে বিএনপি। মরিয়া হয়ে জিয়ার মুক্তির চেষ্টা চলচ্ছে বিএনপি। এমনই পরিস্থিতিতে আদালতের নির্দেশে কার্যত দিশেহারা বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জিয়ার আইনজীবীর অভিযোগ, ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন খালেদা। দু’টি মামলাই পুরোনো। এতদিন তা ফেলে রাখা হয়েছিল। দুর্নীতি মামলায় জামিন পাওয়ার পরই ফের মামলা দু’টি তুলে আনা হয়। তাঁকে জেল থেকে বেরোতে না দেওয়ার জন্যই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, জিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার অভিযোগ রয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে ‘জননেত্রী পরিষদ’র সভাপতি এ বি সিদ্দিকী ২০১৬ সালে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। এছাড়াও মিথ্যা তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের অভিযোগে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রাক্তন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম একই বছরের ৩০ আগস্ট আরেকটি মামলা করেন। সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে খালেদার জামিন পাওয়া সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন আইনজীবীদের একাংশ। কয়েকদিন আগেই বিএনপি-র মহাসচিব অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে বেগম জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছে হাসিনা সরকার। তাঁর বিরুদ্ধে ভয়ানক ষড়যন্ত্র চলছে। পরোক্ষে খালেদার প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
[হত্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে সমন আদালতের]