সুকুমার সরকার, ঢাকা: ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট’ দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছর জেলের সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি সুপ্রিমো খালেদা জিয়াকে চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিল হাই কোর্ট।
[পথ দেখাচ্ছে মহারাষ্ট্র, দিকে দিকে আন্দোলনের প্রস্তুতি কৃষক নেতাদের]
অনাথ শিশুদের সাহায্য করার উদ্দেশ্যেই বিদেশ থেকে পাঠানো ২ কোটি ১০ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করার অভিযোগে খালেদা জিয়া, তারেক রহমান-সহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন। ওই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন খালেদা। তারপরই জামিনের আবেদন করেন তিনি। সোমবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের বেঞ্চ জামিনের এই আদেশ দেন। খালেদা জিয়াকে হাই কোর্টের দেয়া জামিন আদেশ কারাগারে যাওয়ার পরই তিনি মুক্তি পাবেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, “সরকার বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়টি নিয়ে গড়িমসি করছিল বলে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করে আসছিলেন। তবে তাদের এ অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে ভিত্তিহীন। যদি এমন হতো তা হলে খালেদা জিয়া জামিন পেতেন না।”
এদিকে খালেদা জিয়াকে দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে আগামিকাল আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুব আলম। আজ বিকালে সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল খালেদা জিয়ার জামিনের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানান। এদিন হাই কোর্ট জানায়, খালেদা জিয়া বয়স্ক মহিলা। তাঁর শারীরিক নানা জটিলতা আছে। এসব বিবেচনা করে তাঁকে চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া হল। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুব আলম আদালতকে বলেন, ‘এ মামলাটি স্পর্শকাতর। আদালত খালেদা জিয়ার বয়স ও সামাজিক মর্যাদা বিবেচনা করে তাঁকে ৫ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি মামলায় জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। একই সঙ্গে তাঁর ছেলে তারেক রহমান-সহ পাঁচ দোষী সাব্যস্তকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-সহ অন্য দোষীরা অসৎ উদ্দেশ্যে অন্যায়ভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। খালেদা প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় ১৯৯১ সালের ৯ জুন থেকে ১৯৯৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই অর্থ দেশের প্রতিষ্ঠিত কোনও এতিমখানায় না দিয়ে অস্তিত্ববিহীন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট গঠন করেন।
[দুর্নীতি রুখতে গোয়েন্দাদের ব়্যাডারে বিএসএফ কর্তাদের বিলাসী জীবন]