সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: চাইলে দুদিনেই দিল্লি দখল করতে পারে চিন সেনা। বিতর্ক উসকে এমনটাই দাবি চিনা সংবাদ সংস্থার।বিশ্ব মানচিত্রে চিন ও ভারত এখন দুই মহাশক্তি। দুটি দেশই পরমাণু ক্ষমতা সম্পন্ন। তাই একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টায় খামতি নেই। তবে দিল্লি বহুবার বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিলেও বেজিংয়ের তরফে সাড়া মেলেনি। শুধু তাই নয়, বরাবর পাকিস্তান সহ ভারত বিরোধী শক্তিদের মদত যুগিয়ে চলেছে চিন।ভারতকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টায় কোনও কসুর করেনি ওই দেশ। এনএসজি বা নিউক্লিয়ার সাপ্লায়ার্স গ্রুপে ভারতকে ঢুকতে ক্রমাগত বাধা দিয়েছে চিন। পাক মদত পুষ্ট সন্ত্রাসবাদী হাফিজ সইদকে জঙ্গি তকমা দিতে রাষ্ট্র সংঘের কাছে আর্জি জানিয়েছিল ভারত। চিনের বিরোধিতায় তাও সফল হয়নি।
ভারতকে ঘিরে ফেলছে চিন, গদর বন্দরে মোতায়েন রণতরী
তবে এবার ভারতকে প্রছন্ন ভাবে হুমকি না দিয়ে সরাসরি শাশালো লাল চিন। চিনের একটি সরকারি টেলিভশন চ্যানেলের হুমকি, চিন চাইলে দুদিনেই দিল্লি দখল করতে পারে। ওই চ্যানেলের মতে, যুদ্ধ শুরু হলে লালফৌজের সাঁজোয়া বাহিনীর ট্যাঙ্ক ৪৮ ঘন্টায় দিল্লিতে ঢুকে পড়বে। বেজিংয়ের সরকারি মুখপত্রটি আরও দাবি করে যে, লালফৌজের প্যারাট্রুপার সৈন্যরা ১০ ঘন্টায় দিল্লিতে অবতরণ করতে সক্ষম।
তাইওয়ানের জলসীমায় চিনা রণতরী, যুদ্ধের দামামা দক্ষিণ চিন সাগরে
তবে চিনা সংবাদ মাধ্যমের এই হুমকি হাস্যাস্পদ বলে দাবি সামরিক বিশেষজ্ঞদের। ভারতীয় সেনার অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল রহিত আগরওয়ালা, সর্বভারতীয় একটি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন যে চিন চাইলেও সাজুয়া বাহিনী নিয়ে ৪৮ ঘন্টায় দিল্লি পৌঁছতে পারবে না। তিনি আরও জানান যেহেতু ভারত চিন সীমান্তে পুরোটাই পার্বত্য এলাকা তাই বড় সামরিক গাড়ি বা ট্যাঙ্ক নিয়ে ভারতে ঢোকা সম্ভব নয়। ১০ ঘন্টায় দিল্লিতে প্যারাট্রুপার নামিয়ে দিতে পারার চিনা দাবিকে নস্যাৎ করে কর্নেল আগারওয়ালা বলেন যে, চাইলে ভারত ও বেজিংয়ে প্যারাট্রুপার নামাতে পারে। তিনি বলেন, বিমান থেকে দিল্লিতে কয়েক’শ সৈন্য নামিয়ে ভারতের মত মহাশক্তিকে কাবু করা পাগলের প্রলাপ।
যে ১০টি ক্ষেত্রে ভারত গো-হারা হারাবে আমেরিকা-চিনকেও
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন চিনের এই আস্ফালন ভারতের উপর চাপ সৃষ্টি করার একটি পন্থা মাত্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার ক্ষমতায় আসার পর, পাকিস্তান ও চিনকে সীমান্তে আগ্রাসন নিয়ে করা বার্তা দিয়েছে দিল্লি। উরি হামলার পর পাকিস্তানে সার্জিকাল স্ট্রাইক করেছিল ভারত। ইতিমধ্যে সেনা প্রধান বিপিন রাওয়াত জানিয়েছেন যে সীমান্তে শান্তি রক্ষা করতে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগে পিছপা হবে না সেনা। এরই মধ্যে চিনা তর্জন দুদেশের মধ্যে সম্পর্কে ফাটল আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের|