সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতকে হুমকি দিতে গিয়ে হামলার খবর ফাঁস করেছিলেন পাক সেনাবাহিনীর প্রাক্তন কর্তা।কিন্তু ভারতীয় গোয়েন্দা বা কূটনীতিকরা সেই ফাঁস হওয়া খবরটাকে তেমন গুরুত্ব দেননি। কারণ, যে বা যারা এরকম হুমকি দিয়ে থাকে, সেটা তাদের নিত্যদিনের অভ্যেস, চাপে রাখার পুরনো কৌশল। ফলে ওই হুমকিটিকেও পাকিস্তানের নিষ্ফল আক্রোশ বা ব্যর্থ হুঙ্কার বলে মনে করেছিলেন গোয়েন্দারা। সেটাই কাল হয়েছে। সম্প্রতি উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
পুলওয়ামায় হামলার কয়েক মাস আগে একটি পাকিস্তানি টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানে এসে সে দেশের সেনাবাহিনীর প্রাক্তন জেনারেল স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, “ভারতে খুব শীঘ্রই আত্মঘাতী হামলা হবে। কারণ সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে হিন্দুস্তান বড় বড় কথা বলছে। ইনশাআল্লা, আমাদের তাকত কতটা, তা ওদের সমঝে দেওয়ার সময় এসেছে।” এরপর তিনি সঞ্চালকের দিকে তাকিয়ে বলেন, “খুদা কসম, জলদি হিন্দুস্তানি ফৌজ আর মোদি সরকার বুঝতে পারবে পাকিস্তানের ক্ষমতা।”
[ কুলভূষণ মামলায় ১৮ তারিখ আন্তর্জাতিক আদালতে মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান ]
তাঁর প্ররোচনামূলক বক্তব্যে তিনি বলেন, “ভারত এখনও জানে না কী হতে চলেছে। কাশ্মীরে পরপর আত্মঘাতী হামলা শুরু হবে। তাহলেই ভারতের শিক্ষা হবে।” ওই অনামী শীর্ষ পাক জেনারেলের অভিযোগ ছিল, ভারত কাশ্মীরে অত্যাচার চালাচ্ছে এবং পাকিস্তানের সঙ্গে কোনওরকম আলোচনা করছে না।
বৃহস্পতিবার পুলওয়ামায় আত্মঘাতী হামলা চালায় পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। গাড়ি বোমা বিস্ফোরণ করে প্রায় ৪৯ জন জওয়ানকে হত্যা করে তারা। এই ঘটনায় দুনিয়াজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। হামলার দায় জইশ স্বীকার করার পর থেকেই পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলি তাদের ধন্য ধন্য করছে। তাদের প্রচার চলছে, কাশ্মীরের আজাদির আর দেরি নেই। কারণ আল্লার নামে শপথ করে লড়ছে জেহাদিরা। ভারতের সেনাদের খতম করে দারুণ সাফল্য পাওয়া গিয়েছে। যদিও পাকিস্তান সরকার পিঠ বাঁচাতে বরাবরের মতো এই ঘটনার দায় ঝেড়ে ফেলেছে। কিন্তু পাকিস্তান সরকার ও জঙ্গিরা যে একযোগে ভারত বিরোধী সন্ত্রাসে যুক্ত রয়েছে তা ফের একবার ফাঁস হয়ে গিয়েছে।
[ পুলওয়ামা হামলা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো খবরের ছড়াছড়ি! সতর্ক থাকুন ]