সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু, ভীমরাও রামজি আম্বেদকর- প্রত্যেকের মধ্যে মিল কোথায়? এমন একটা প্রশ্ন করলে অবাক হবেন যে কেউ। সর্বভারতীয় রাজনীতিতে এঁদের প্রত্যেকের অবদানের কথাই আলোচনায় উঠে আসবে। কিন্তু এঁদের প্রত্যেকের মধ্যে আরও একটা সাদৃশ্য রয়েছে। আর এই সাদৃশ্যের কথাই বললেন কংগ্রেসের সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী। তাঁর মতে, মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু, বি আর আম্বেদকর এঁরা প্রত্যেকেই অনাবাসী ভারতীয়। এটাই নাকি তাঁদের মধ্যে অন্যতম মিল। নিউ ইয়র্কের একটি অনুষ্ঠানে এমন অভিনব দাবি করলেন রাহুল।
[এবার বেনামি সম্পত্তির হদিশ দিলেই মিলবে এক কোটি টাকা!]
এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে রাহুল জানান, কংগ্রেস আন্দোলনের সূচনাও কিন্তু অনাবাসী ভারতীয়দের হাত ধরেই। আমেরিকা সফরে গিয়ে অনাবাসী ভারতীয়দের এভাবেই উদ্বুদ্ধ করতে চাইলেন কংগ্রেসে সহ-সভাপতি। যদিও পরে তিনি বলেন, বাইরের বিশ্বের সঙ্গে সংযোগ ঘটলে মন উদার হয়, দেখার চোখটাও অন্যরকম হয়। সেই দৃষ্টিভঙ্গি ছিল বলেই গান্ধী-নেহরু-আম্বেদকররা ভারতের উন্নতি ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, এমনটাই বলতে চেয়েছেন তিনি। নিউ ইয়র্কের ওই অনুষ্ঠানে হাজারদুয়েক অনাবাসী ভারতীয় সমর্থকের উপস্থিতিতে রাহুল বলেন, মূল কংগ্রেস আন্দোলন ছিল অনাবাসী ভারতীয়দের আন্দোলন। তাঁর কথায়, জাতির জনক এনআরআই ছিলেন। জওহরলাল নেহরুও ছিলেন ‘বিলেতফেরত’। এছাড়াও মৌলানা আবুল কালাম আজাদ, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলও অনাবাসী ভারতীয় ছিলেন। এরপরেই রাহুল বলেন অনাবাসী বলতে তিনি বহির্বিশ্বের সঙ্গে নিবিড় যোগের কথাই কিন্তু বলছেন।
[হিন্দুদের হত্যা করে ‘মুক্ত’ হিন্দুস্থানের হুঙ্কার জাকির মুসার]
এদিন রাহুল বলেন, গান্ধী, নেহরু, আম্বেদকর এঁরা প্রত্যেকেই বাইরের দুনিয়া দেখেছিলেন। বাইরের বিশ্বের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার কারণেই সেখান থেকে সংগৃহীত নানারকম ভাবধারা সুষ্ঠুভাবে নিজের দেশে প্রয়োগ করতে পেরেছিলেন তাঁরা। আমেরিকায় অনাবাসী ভারতীয়দের রাহুল বলেন, দেশের বাইরে থাকলেও দেশের উন্নয়নে একটা বড় ভূমিকা পালন করেন প্রবাসী ভারতীয়রা। অনাবাসী ভারতীয়দের ‘দেশের মেরুদণ্ড’ বলেও মন্তব্য করেন রাহুল। তবে এদিনও বিজেপিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি। বলেন, প্রবাসীরা নাকি তাঁর কাছে দেশে বৈষম্যের রাজনীতি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। যদিও রাহুলের এই বক্তব্য কিছুটা হলেও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে আম-জনতার মধ্যে।