সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে জইশ-ই-মহম্মদের সদর দপ্তর ‘পার্মানেন্টলি ক্লোজড’ বলছে গুগল ম্যাপ। ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানে ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়া জইশ সদর দপ্তর ‘জামিয়া মসজিদ সুভহান আল্লাহ’ সম্পর্কে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ হয়েছে শনিবার। সংবাদ সংস্থার খবর, পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে অবস্থিত এই মসজিদ ভারতীয় সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। গুগল ম্যাপে দেওয়া তথ্য ও স্যাটেলাইট চিত্র বলছে, বর্তমানে বরাবরের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছে পাঞ্জাব প্রদেশের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত জইশের এই প্রধান ঘাঁটি।
একইসঙ্গে জানা গিয়েছে, পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পরদিনই অর্থাৎ ২৩ এপ্রিল বাহাওয়ালপুর ও মুরিদকেকে টার্গেট করে ফেলেছিল ভারত। কারণ, ‘জামিয়া মসজিদ সুভহান আল্লাহ’ মসজিদের আড়ালেই চলত জইশ গোষ্ঠীর জঙ্গি প্রশিক্ষণ। তাই অপারেশন সিঁদুরের অন্যতম নিশানা এই কেন্দ্র ভারতের ভয়ে বন্ধই করে দিল পাকিস্তান।
অন্যদিকে, পহেলগাঁও হামলার পরের দিন, ২৩ এপ্রিল একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় পাকিস্তানের দু’টি পরিচিত জঙ্গি ঘাঁটি বাহাওয়ালপুর এবং মুরিদকেকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল। তিন বাহিনীর প্রধান, সেনা সর্বাধিনায়ক জেনারেল অনিল চৌহান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। আর ৭ মে গভীর রাতে ভারতীয় সেনাবাহিনী, নৌসেনা ও বায়ুসেনার যৌথ পরিকল্পনায় সামরিক অভিযানে একযোগে আঘাত হানা হয় ৯টি জঙ্গিঘাঁটিতে। প্রতিটি জায়গারই অতীতে একাধিক বড়সড় সন্ত্রাসবাদী হামলার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছিল। তার মধ্যেই ছিল পাকিস্তানের দক্ষিণ পাঞ্জাবে অবস্থিত বাহাওয়ালপুর জইশ-ই-মহম্মদের সদর দপ্তর। মাসুদ আজহারের নেতৃত্বাধীন এই জঙ্গিগোষ্ঠী ২০০১ সালের সংসদ হামলা, ২০১৯ সালের পুলওয়ামা আত্মঘাতী হামলার মতো বহু ভয়াবহ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। বাহাওয়ালপুরে জইশের ঘাঁটি ছিল বহুদিন ধরেই। প্রথম থেকেই ভারত এই হামলাকে পাকিস্তান-পোষিত সন্ত্রাস হিসেবেই দেখেছে। এবং তারই জবাব হিসেবে লস্কর, জইশের সংগঠন ও তার সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর লজিস্টিক, প্রশিক্ষণ ও কমান্ড অবকাঠামোকে ধ্বংস করে দেওয়াই ছিল অপারেশন সিঁদুরের প্রধান উদ্দেশ্য।