সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: গত সপ্তাহেই বিতর্কিত প্রত্যর্পণ বিল প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেছেন হংকংয়ের প্রশাসক ক্যারি ল্যাম। মনে করা হয়েছিল এবার থামবে বিক্ষোভ। কিন্তু চিনপন্থী প্রশাসনের সে গুড়ে বালি। প্রায় তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভ আরও বেড়েছে। সোমবার শহরের সমস্ত স্কুলের সামনে মানবশৃঙ্খল গড়ে চিনা স্বৈরশাসনের প্রতিবাদ জানান গণতন্ত্রকামীরা। তার আগে রবিবার মার্কিন দূতাবাসের সামনে জড়ো হয়ে আমেরিকার হস্তক্ষেপ দাবি করেন বিক্ষোভকারীর।
[আরও পড়ুন: দেশবাসীর প্রবল চাপের মুখে হংকংয়ে প্রত্যাহার বিতর্কিত বন্দি প্রত্যর্পণ বিল]
এতদিন পর্যন্ত হংকংয়ের গণবিক্ষোভ অনেকটাই অভ্যন্তরীণ বিষয় ছিল। কিন্তু বিক্ষুব্ধদের মার্কিন মদত চাওয়ায় এবার সিঁদুরে মেঘ দেখছে স্বশাসিত শহরের প্রশাসন। হংকংয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলানোর জন্য আমেরিকাকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়েছে চিনপন্থী ক্যারি ল্যামের প্রশাসন। উল্লেখ্য, রবিবার শহরজুড়ে দফায় দফায় সংঘর্ষ বাঁধে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে। তারপরই মার্কিন দূতাবাসের উদ্দেশে রওনা দেন গণতন্ত্রকামীরা। এই আন্দোলনে প্রসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে মদতের আরজি জানান তাঁরা। মানবাধিকার লঙ্ঘনে অভিযুক্ত হংকংয় ও চিনা অধিকারকদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করতে মার্কিন কংগ্রেসে বিল আনার দাবিও জানান তাঁরা। এদিকে, হংকং প্রশাসন সাফ জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলিয়ে কোনও রাষ্ট্রেরই আইন প্রণয়ন করা উচিত নয়।
এদিকে, বিতর্কিত বন্দি প্রত্যর্পণ বিল প্রত্যাহারের দাবি মিটলেও অন্যান্য দাবি না মেটা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলবে বলে জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীর। এবার, নির্বাচনের মাধ্যমে প্রশাসকের চয়ন ও পুলিশি জুলুমের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছেন শহরের মানুষ। তবে, গোটা বিক্ষোভকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবেই দেখানোর চেষ্টা করছে চিন ও সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমগুলি। হংকংয়ে বিদেশি মদতপুষ্ট বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি কাজ করছে বলে অভিযোগ বেজিংয়ের।তবে চিনের অভিযোগে কান দিতে নারাজ আন্তর্জাতিক মঞ্চ।
[আরও পড়ুন: পাক নাটকে যবনিকা পতন, গোপনে জঙ্গি মাসুদ আজহারকে কারামুক্ত করল ইসলামাবাদ]