সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আর কোনও উপায় ছিল না। বাধ্য হয়েই ইজরায়েলের (Israel) উপর হামলা চালানো হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের আপৎকালীন বৈঠকে এই কথা সাফ জানিয়ে দিল ইরান (Iran)। সেই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদকে ব্যর্থ বলে তোপ দেগেছে তারা। তবে ইরানের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারাও মোটেই যুদ্ধের পক্ষপাতী নয়।
গত অক্টোবর থেকে ইজরায়েলের হামাস বিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই তেল আভিভের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে গত ১ এপ্রিল সিরিয়ায় ইরানের দূতাবাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। দুই ইরানি সেনাকর্তা-সহ মোট ১৩ জনের মৃত্যু হয় এই হামলায়। এই হামলার নেপথ্যে ইজরায়েলের দিকেই আঙুল তুলেছিল ইরান। লাগাতার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর শনিবার ইজরায়েল লক্ষ্য করে মিসাইল ছোঁড়ে তারা।
[আরও পড়ুন: ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে কথা জয়শংকরের, আটক ভারতীয় নাবিকদের মুক্তি কবে?]
এই হামলার পরেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। তড়িঘড়ি আপৎকালীন বৈঠক ডাকে রাষ্ট্রসংঘ (United Nations)। সেই বৈঠকেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দেয় ইরান। রাষ্ট্রসংঘে সেদেশের প্রতিনিধি আমির সইদ ইরাভানি বলেন, “স্বাভাবিকভাবেই আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে ইরানের। আমাদের আর কোনও উপায় ছিল না। ইজরায়েলকে জবাব দিতেই হত। তবে আমাদের দেশ মোটেও যুদ্ধ চায় না। তবে কোনওভাবে আগ্রাসনের শিকার হলে অবশ্যই জবাব দেব।”
এখানেই না থেমে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকেও ব্যর্থ বলে তোপ দেগেছে ইরান। এদিনের বৈঠকে ইরাভানি বলেন, “আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার দায়িত্বে ফেল করেছে নিরাপত্তা পরিষদ। তাদের উচিত, শান্তিভঙ্গের জন্য যারা দায়ী সেই নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ করা। গাজার গণহত্যা বন্ধ করতেও দ্রুত পদক্ষেপ করা দরকার।” উল্লেখ্য, রবিবার রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সাফ জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য ইতিমধ্যেই বিধ্বস্ত। আরও একটা যুদ্ধ সহ্য় করতে পারবে না বিশ্ব।