সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদীদের মদত দিচ্ছে পাকিস্তানের কুখ্যাত গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। ওই দেশে একটি সমান্তরাল প্রশাসন চালায় গুপ্তচর সংস্থাটি। রাখঢাক না করে মঙ্গলবার এভাবেই পাকিস্তানকে সমালোচনায় বিদ্ধ করলেন আমেরিকার ‘জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফ চেয়ারম্যান’ জেনারেল জোসেফ ডানফোর্ড।
‘দ্য হিল’ নামের এক মার্কিন সংবাদপত্র সূত্রে খবর, শুধু জেনারেল ডানফোর্ড নন, পাকিস্তানকে তুলোধোনা করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব জেমস মেটিস। তাঁর অভিযোগ পাকিস্তানে একটি সমান্তরাল সরকার চালায় কুখ্যাত আইএসআই। এদিন মার্কিন সেনেটর ‘আর্মড সার্ভিসেস কমিটি’র সামনে বক্তব্য রাখছিলেন মেটিস ও ডানফোর্ড। ‘রাশিয়া টুডে’ সূত্রে খবর, সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে আইএসআই আঁতাত নিয়ে এদিন সেনেটে অভিযোগ জানান মেটিস।
[রাম রহিম, হানিপ্রীতকে নিয়ে আচমকাই টুইট করে বিতর্কে জড়াল রাষ্ট্রসংঘ]
প্রতিরক্ষা সচিব মেটিস ও জেনারেল ডানফোর্ডের কড়া বয়ানে চাপে পড়তে চলেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। দুই আধিকারিকের বয়ানের পর পাকিস্তানের ‘মেজর নন-ন্যাটো এলাই’ বা ন্যাটো দেশগুলির সমপর্যায়ের বন্ধুর তকমা কেড়ে নেওয়া হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি পাকিস্তানের তকমা কেড়ে নেওয়ার পক্ষেই সমর্থন জানিয়েছেন মেটিস। ওই তকমা না থাকলে আমেরিকা থেকে সামরিক ও আর্থিক মদত পাবে না পাকিস্তান। ফলে প্রবল বিপাকে পড়তে পারে ইসলামাবাদ।
“পাকিস্তান মিথ্যেবাদী। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে দ্বিচারিতা করছে ওই দেশ। আমেরিকা এমনটা কখনওই মেনে নেবে না। তবে নিজের ভুল শুধরানোর একটি শেষ সুযোগ দেওয়া হবে পাকিস্তানকে। এর পর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে আমেরিকা।” এমন কড়া ভাষাতেই পাকিস্তানকে কার্যত হুঁশিয়ারি দেন মার্কিন জেনারেল জোসেফ ডানফোর্ড।
উল্লেখ্য, শুধু আমেরিকা নয় ভারত, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশও পাক সন্ত্রাসবাদের ভুক্তভোগী। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার একযোগে ইসলামাবাদের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে দিল্লি। তবে ফল কিছু হয়নি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি সাফ জানিয়েছেন তাঁদের দেশে সন্ত্রাসবাদের নেপথ্যে রয়েছে পাকিস্তানের আইএসআই। যাই হোক না কেন মেটিসের বয়ান আখেরে কুটনৈতিক স্তরে ভারতের সাফল্য বলেই মনে করছে ওয়াকিবহল মহল।
[‘বেঁচে আছি’, দাবি এলফিনস্টোন দুর্ঘটনায় ‘মৃত’ যুবকের]