সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: রাজধানী বেইরুটের বন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণের জেরে বিক্ষোভের মুখে ইস্তফা দিল লেবানন (Lebanon) সরকার । সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। বেইরুটের বন্দর এলাকায় বিস্ফোরকের গুদামে গত ৪ আগস্ট ভয়াবহ বিস্ফোরণে দুই শতাধিক মানুষ নিহত এবং ছয় হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে লেবাননে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র হতে থাকায় পদত্যাগ করতে শুরু করেন একের পর এক মন্ত্রী। এতে চাপে পড়ে লেবাননের মন্ত্রিসভা। রবিবার লেবাননের তথ্য ও পরিবেশমন্ত্রী-সহ কয়েকজনের পদত্যাগের পর সোমবার পদত্যাগ করেছেন আইনমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রীও পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গত বছর জানুয়ারিতে ইরান সমর্থিত প্রভাবশালী হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী ও তার মিত্রদের সমর্থন নিয়ে লেবাননের মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছিল।
সরকারবিরোধী আন্দোলন বেশ কিছুদিন আগেই শুরু হয়েছিল বেইরুটে (Beirut)। দেশের সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত, এই অভিযোগে গত বছর আন্দোলনে নামে তরুণরা। করোনার জেরে প্রাথমিকভাবে আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়েছিল। কিন্তু অনেকের চাকরি চলে যাওয়ায় করোনাকে উপেক্ষা করেই ফের রাস্তায় নামে সাধারণ মানুষ। তবে গত মঙ্গলবার যে ঘটনা ঘটেছে, তারপর কার্যত ছোটখাট বিচ্ছিন্ন আন্দোলনগুলো বড় আকার নিয়েছে। পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়ছে। আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে বিভিন্ন সরকারি অফিসে। বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে পালটা কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশও। তবে আন্দোলনকারীদের কোনওভাবেই থামাতে পারছে না পুলিশ। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার ইস্তফার পর পার্লামেন্ট নতুন নেতা বেছে নেবে।
[আরও পড়ুন: বেইরুট বিস্ফোরণে বেসামাল লেবানন, রাজনৈতিক বদলের ইঙ্গিত ফরাসি প্রেসিডেন্টের]
বিস্ফোরণের জেরে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বেইরুট (Beirut) শহর। বিভিন্ন দেশ থেকে লক্ষ লক্ষ ডলার অর্থসাহায্য আসছে, কিন্তু তা পৌঁছচ্ছে না ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরে। এমনই সব অভিযোগ, হাহাকারে উত্তাল শহর। রবিবার ইস্তফা দেওয়ার পর দেশটির তথ্যমন্ত্রী সামাদ সাফ জানান, প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব জনতার আশা পূরণ করতে পারেননি তাই এই সরকারের সঙ্গে তিনি আর থাকতে চান না। এই ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই পদত্যাগ করেন লেবাননের পরিবেশমন্ত্রী দামিয়ানস কাট্টার। কিন্তু দুই মন্ত্রী পদত্যাগ করলেও ক্ষমতা ছাড়ার কোনও ইঙ্গিত দেননি প্রধানমন্ত্রী দিয়াব। একইভাবে ক্ষমতা ছাড়তে নারাজ রাষ্ট্রপতি মিখেল আউনও।