সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: গুরুনানকের স্মৃতিবিজড়িত এবং জন্মস্থান নানকানা সাহিব গুরুদ্বারে হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। পাকিস্তানের পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভ ফুটেজ দেখে হামলা ও ভাঙচুরে নেতৃত্ব দেওয়া ইমরান নামের ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর মুখপাত্র আজহার মাশওয়ানি বলেছেন, ‘সন্ত্রাস দমন আইনের সাত নম্বর ধারা মেনে ধৃতের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ধৃতকে নানকানা থানায় পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। তার জামিনের বিরোধিতা করে তাকে কড়া সাজা দেওয়ার সুপারিশ করবে পাকিস্তান সরকার।’ উল্লেখ্য, পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান রবিবার “নানকানা সাহিবের ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এই ঘটনা সরকারের অবস্থানের বিরোধী। এরকম হামলা কিছুতেই মেনে নেওয়া হবে না। এই ধরনের ঘটনায় পাকিস্তানের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। সরকার কোনওভাবে এ ধরনের ঘটনার বরদাস্ত করবে না।”
কয়েকদিন আগেই নানকানা সাহিব গুরুদ্বার লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি শুরু করে মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশ মানুষ। ভয়ানক পরিস্থিতি সম্মুখীন হতে হয় ভারতীয় তীর্থযাত্রী-সহ পাকিস্তানে বসবাসকারী শিখ সম্প্রদায়ের একাংশকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সেই ভিডিও। ঘটনার কথা জানতে পেরেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য চেয়ে টুইট করেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং। পরে এই হামলার তীব্র নিন্দা করে ভারত সরকার। ওই ঘটিনর রেশ না কাটতেই পেশোয়ারে খুন হন এক শিখ যুবক। রবিন্দর সিং নামে ওই যুবকের দেহ চামকানি থানা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। তবে আততায়ীদের এখনও চিহ্নিত করা যায়নি।
শিখদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ভারত সরকার। ফলে আন্তর্জাতিক মহলে চাপের মুখে পাকিস্তান। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের নির্দেশে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও ঘটনার নেপথ্যে থাক রাঘব বোয়ালরা পার পেয়ে যাবেন বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।