সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পরপর বৈঠক, তবু অধরা সমাধান। শুল্কযুদ্ধের আবহে ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক। এরই মাঝে ভারতের স্বাধীনতা দিবসের বার্তায় মার্কিন বিদেশমন্ত্রীর মুখে উলটো সুর। আমেরিকা ও ভারত একসঙ্গে কাজ করে আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করবে, এমনটাই দাবি মার্কো রুবিওর। শুক্রবার তিনি ভারত-আমেরিকা সম্পর্ককে ‘ঐতিহাসিক, গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, দুই দেশই শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও সুরক্ষিত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্বপ্ন দেখছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ভারতের স্বাধীনতা দিবসে রুবিও আমেরিকার পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দৃঢ়তার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ”বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র ভারত ও বিশ্বের প্রাচীনতম গণতন্ত্র আমেরিকার সম্পর্ক ঐতিহাসিক এবং এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী।” যদিও দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে যে রুশ-ঝড় চলছে তার দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন পুতিনকে শান্তি বৈঠকে রাজি করাতেই ভারতকে ‘শুল্কবাণ’ ঘায়েল করতে উদ্যত হয়েছে আমেরিকা।
রুবিও বলেন, “আমেরিকা ও ভারত একসঙ্গে আধুনিক যুগের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করবে এবং দুই দেশের জন্যই উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে।” উদীয়মান প্রযুক্তি থেকে শুরু করে মহাকাশ পর্যন্ত সহযোগিতা বিস্তারের বার্তা দিয়েছেন রুবিও। মুখে সহযোগিতার বার্তা দিলেও আলাস্কা বৈঠকের ঠিক আগে পুতিনকে চাপ দিতে ভারতের উপর শুল্ক চাপানোর দাবি করেছেন ট্রাম্প। তাই রুবিওর মুখে সম্প্রীতির বার্তা আসলে বিশ্ব রাজনীতিতে আমেরিকার ব্যালেন্সের খেলা বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
রুশ তেল কেনা অব্যাহত রাখার কারণে ভারতীয় আমদানির উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর জবাবে ভারত সরকার এই পদক্ষেপকে ‘অন্যায়, অযৌক্তিক ও অবাস্তব’ বলে মন্তব্য করে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় যখন পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলা ও অপারেশন সিঁদুরের পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করেন ট্রাম্প। ভারত প্রকাশ্যে তা প্রত্যাখ্যান করে। বহু বিশেষজ্ঞের মতে, এই ঘটনার পরে ভারতের কঠোর অবস্থানের প্রতিক্রিয়াতেই ট্রাম্পের এই কড়া পদক্ষেপ।