সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও আমেরিকাকে চূড়ান্ত আশঙ্কায় ফেলে ফের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া। রবিবার উত্তর কোরিয়া আরেকটি ব্যালিস্টিক মিসাইলের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন গোয়েন্দারা। তাঁরা জানিয়েছেন, পিয়ংগ্যান প্রদেশ থেকে ছোড়া এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে জাপানি জলসীমায় গিয়ে পড়েছে। এটি একটি ইন্টার মিডিয়েট রেঞ্জ ব্যালিস্টিক মিসাইল। মিসাইলটি লঞ্চ করার মুহূর্ত থেকে শুরু করে জাপানের জলসীমায় গিয়ে পড়া পর্যন্ত সেটি ট্র্যাক করেছেন মার্কিন গোয়েন্দারা।
#ICYMI: Joint Statement with Prime Minister Shinzo Abe on North Korea. pic.twitter.com/qEC87FKB1D
Advertisement— Donald J. Trump (@realDonaldTrump) February 12, 2017
ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হওয়ার পর এই প্রথম কোনও ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়ল যুদ্ধবাজ নেতা কিম জং উনের দেশ। এই প্রসঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার কার্যনির্বাহী প্রেসিডেন্ট হোয়াং কিয়ো-অ্যান জানিয়েছেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলি যৌথভাবে এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের তীব্র নিন্দা করছে। এর বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হবে, সেই বিষয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফ মনে করেন, যে মিসাইলটি রবিবার উৎক্ষেপণ করা হয়েছে, সেটি রডং মিসাইলের আপডেটেড ভার্সন। তবে মিসাইলটির পাল্লা দেখা স্পষ্ট যে সেটি কোনও ইন্টার কন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল নয়, জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
North Korea launched a ballistic missile today. Unfortunately it didn’t land near the Grammy’s. #pacificocean #NorthKorea #notevenclose
— Donald Trump (@RealPresidentT) February 12, 2017
উত্তর কোরিয়ার এদিনের পদক্ষেপ চিন্তায় ফেলেছে জাপানকেও। জাপ প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে রবিবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “যেভাবে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ করছে উত্তর কোরিয়া, সেটা মেনে নেওয়া যায় না। তাদের এই পদক্ষেপ রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তাবিধিকে লঙ্ঘিত করছে।” ট্রাম্প বলেন, “আমি আরেকবার স্পষ্ট করে দিতে চাই, জাপানের পাশেই রয়েছে আমেরিকা। দুই দেশের মধ্যে ১০০ শতাংশ বন্ধুত্ব রয়েছে।” ভবিষ্যতে পিয়ংইয়ং যেন যেন ফের এরকম সাহস না দেখায় তা নিশ্চিত করতে এদিনই ট্রাম্পের জাতীয় সুরক্ষা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন দক্ষিণ কোরিয়ার কিম কোয়ান জিনের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার অভিযোগ, এই নিয়ে গতবছর থেকে আজ পর্যন্ত ২৫টি মিসাইল ছুঁড়েছে উত্তর কোরিয়া। যদিও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মত, মিসাইল টেকনোলজির ব্যাপক উন্নয়ন ঘটাতেই এদিন একটি ‘টেস্ট ফায়ার’ করল উত্তর কোরিয়া। আসলে কিম জন উন দেখে নিতে চান, তাঁদের মিসাইলগুলির পাল্লা কতদূর ও কতটা নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম। কারণ, তাঁর আসল টার্গেট ওয়াশিংটন।