সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কথায় আছে, ‘বাপ কা বেটা, সিপাহী কা ঘোড়া। কুছ নেহি তো থোড়া থোড়া।’ তবে তালিবানের প্রতিষ্ঠাতা কুখ্যাত মোল্লা মহম্মদ ওমর বা মোল্লা ওমরের ছেলে মোল্লা ইয়াকুব সেই অর্থে ‘বাপ কা বেটা’ কোনও কালেই ছিল না। বাবার মৃত্যুর পর ‘তালিব’দের উপর খবরদারি করার ইচ্ছা থাকলেও সংগঠনের শীর্ষে পৌঁছাতে পারেনি সে। কিন্তু এবার পাক গুপ্তচর সংস্থা ISI-এর দৌলতে তালিবানের রাশ হাতে পেয়েছে ইয়াকুব।
[আরও পড়ুন: বিক্ষোভকারী-পুলিশের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হোয়াইট হাউস চত্বর, সেনা নামানোর হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের]
আফগানিস্তের গোয়েন্দা সংস্থা ‘ন্যাশনাল ডিরেক্টরেট অফ সিকিউরিটি’র প্রাক্তন প্রধান রহমতোল্লা নবিল টুইট করে দাবি করেছেন, তালিবানের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছে মোল্লা ইয়াকুব। তালিবানের শীর্ষ নীতি নির্ধারক সমিতি বা ‘সুরা’র বেশ কয়েকজন শীর্ষ ও প্রবীণ সদস্য করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। কাতারের রাজধানী দোহায় তালিবানের রাজনৈতিক দপ্তরেও থাবা বসিয়েছে করোনা। সেখান থেকে বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে পাকিস্তান ফেরত পাঠানো হবে। এছাড়াও, দলের শীর্ষ পদের দাবি নিয়ে সংগঠনটির মধ্যে দেখা দিয়েছে গোষ্ঠী সংঘর্ষ। এহেন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ISI-এর মদতে তালিবানের রাশ এসেছে ইয়াকুবের হাতে।
বিশ্লেষকদের মতে, তালিবানের শীর্ষস্তরে এই পরিবর্তন অত্যন্ত টালমাটাল সময়ে হয়েছে। একদিকে, আফগান ভূমি থেকে ফৌজ সরাচ্ছে আমেরিকা, ওপরদিকে কাবুলের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ঘানি সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চলেছে তালিবান। এহেন সময়ে উগ্রপন্থী সংগঠনটির শীর্ষস্তরে বদল ঘটা মানে এতদিনের সমস্ত সমীকরণ পালটে যাওয়া। এদিকে, রহমতোল্লা নবিলের মত, বালোচিস্তানের রাজধানী কোয়েটায় অবস্থিত ‘সুরা’য় প্রবীণ আফগান তালিবান নেতাদের প্রভাব কমাতে চাইছে পাকিস্তান। এর জন্য পোষ্যপুত্র ইয়াকুবকে দলের প্রধান হিসেবে বসিয়েছে তারা। তিনি আরও জানান তালিবানে হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রভাব বাড়িয়ে তুলতে চায় পাক গোয়েন্দা সংস্থাটি।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে মোল্লা ওমরের মৃত্যুর পর থেকেই তালিবানের রাশ নিজের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করছিল ইয়াকুব। কিন্তু ২০১৫ সালে তালিবানের শীর্ষ পদে বসে মোল্লা আখতার মানসউর। তারপর ২০১৬ সালে ইয়াকুবকে আফগানিস্তানের ১৫টি প্রদেশে তালিবানের মিলিটারি কমিশনের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। এদিকে, ওই বছরই পাকিস্তানে মার্কিন ড্রোন হামলায় মৃত্যু হয় মানসউরের। তারপর তার জায়গায় বসে হিবাতুল্লাহ আখুনদজাদা। কিন্তু বর্তমানে সেও করোনায় আক্রান্ত তাই তালিবানের নয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছে ইয়াকুব বলে খবর।