Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬

ভারতীয় দূতকে বহিষ্কার করে জবাব ইসলামাবাদের

ভারতে পাক দূতাবাসে আরও কড়া নজর গোয়েন্দাদের৷ অনুমান, চরচক্রে জড়িয়ে আরও অনেকে৷

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ২৮, ২০১৬, ০৯:০৩

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ২৮, ২০১৬, ০৯:০৩

options
link
ভারতীয় দূতকে বহিষ্কার করে জবাব ইসলামাবাদের zoom

নন্দিতা রায়, নয়াদিল্লি: ভারত-পাক সীমান্তের উত্তেজনা কয়েকদিন সামান্য হলেও থিতিয়েছিল৷ রুটিন গুলি বিনিময় এবং দু’পক্ষের সেনাদের হতাহত হওয়ার ঘটনার মাঝেই ফের উত্তেজনা বাড়াল পাকিস্তানি চরচক্র ফাঁস৷ দিল্লিতে পাক দূতাবাসের কর্মী মেহমুদ আখতারকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বৃহস্পতিবার ভারত থেকে বহিষ্কার করার কথা ঘোষণা করে নয়াদিল্লি৷ তারপর পাক হাইকমিশনার বাসিত আলিকে ডেকে তীব্র ভর্ৎসনা করে ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক৷ ভারত সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে পাল্টা জবাব দেয় পাকিস্তান৷ ভারতীয় দূতাবাসের কর্মী সুরজিৎ সিংকে অবাঞ্ছিত ব্যক্তি ঘোষণা করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তান ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়৷

ঠিক কী ঘটেছিল এদিন? ভারতীয় গোয়েন্দাদের বক্তব্য,  দিল্লির পাকিস্তানি হাইকমিশনে বসেই ‘ইধার কা মাল উধার’ হয়ে যাচ্ছিল৷ দিল্লির পাক দূতাবাস ঘুরে বিএসএফ ও  ভারতীয় সেনাদের বহুবিধ গোপন তথ্য নিয়মিত পাচার হয়ে যাচ্ছিল পাকিস্তানে৷ এর নেপথ্যে ছিল এক পাক দূতাবাস কর্মী৷ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার পাক দূতাবাসের এক ভিসা কর্মীকে আটক করে দিল্লি পুলিশ৷ মেহমুদ আখতার নামে ওই কর্মী এবং তার অনুগত দুই ভারতীয় নাগরিক মৌলানা রমজান এবং সুভাষ জাঙ্গির নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়৷ শেষ দু’জন রাজস্থানের বাসিন্দা এবং পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর বেতনভুক এজেণ্ট৷ এদের নিয়োগ করেছিল আখতার৷ আখতার হল ভারতে নিযুক্ত পাক হাইকমিশনার বাসিত আলির খুব ঘনিষ্ঠ কর্মচারী৷ অন্যদিকে, আদালতে তোলা হলে রমজান ও জাঙ্গিরকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন দিল্লির মুখ্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট৷

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ জানিয়েছেন, পাক হাইকমিশনারকে ডেকে পাঠিয়ে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পাক দূতাবাসকর্মীরা ভবিষ্যতে যেন এমন কিছু অপরাধমূলক বা আপত্তিজনক কাজ না করেন যা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের বিরোধী৷ ‘কূটনৈতিক রক্ষাকবচ’ থাকায় পাক দূতাবাসকর্মী মেহমুদ আখতারকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ৷ টানা জেরা করার পরই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ভারত সরকার নির্দেশ দেয়, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে ভারত ছেড়ে চলে যেতে হবে৷ বাকি দুই পাক চরকে গ্রেফতার করে ম্যারাথন জেরা করছেন গোয়েন্দারা৷ ধরা পড়ার পর অবশ্য ভুয়া আধার কার্ড ও ড্রাইভিং লাইসেন্স পেশ করে নিজেকে ভারতীয় নাগরিক প্রমাণ করার মরিয়া চেষ্টা করেছিল আখতার৷ কিন্তু লাভ হয়নি৷

অন্যদিকে, ভারত আখতারকে বহিষ্কার করতেই পাল্টা জবাব দেয় ইসলামাবাদ৷ তারা ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মী সুরজিৎ সিংকে ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণা করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সপরিবার পাকিস্তান ছাড়ার নির্দেশ দিল৷ ভারতীয় হাইকমিশনার গৌতম বামবাওয়ালেকে ডেকে পাক বিদেশমন্ত্রক এই নির্দেশনামা হাতে ধরিয়ে দিয়েছে৷ অর্থাৎ পাক কূটনীতিক মেহমুদ আখতারকে ভারত ছাড়তে বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রথামাফিক ‘কূটনৈতিক দুর্ব্যবহারের’ ‘পরিচিত ঐতিহ্যই’ এদিন বজায় রাখল ইসলামাবাদ৷

এদিনই পাক চরচক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে যোধপুর থেকে শোয়েব নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷ পাসপোর্ট এজেণ্ট শোয়েব পাক দূতাবাসকর্মী আখতারের সঙ্গে সুভাষ জাঙ্গির ও রমজানের আলাপ করিয়ে দিয়েছিল৷ ভারতীয় গোয়েন্দারা জানিয়েছেন,  বিএসএফের মোতায়েন, আগামী দিনে বিএসএফের পরিকল্পনা, পাক সীমান্তে বিএসএফের চৌকি ও পরিকাঠামো বদলের নকশা-সহ বেশ কিছু স্পর্শকাতর নথিপত্র, ছবি, মানচিত্র আখতারের কাছ থেকে পাওয়া গিয়েছে৷ সন্দেহ করা হচ্ছে, পাক হাইকমিশনের আরও অনেক কর্মী যারা চরচক্রে জড়িয়ে রয়েছে তারা সতর্ক হয়ে গিয়েছে৷ তবে তাদের উপর ২৪ ঘণ্টা নজর রাখা হচ্ছে৷

দিল্লি পুলিশের অপরাধ দমন শাখার যুগ্ম কমিশনার রবীন্দ্র যাদব জানিয়েছেন, জেরার মুখে ভেঙে পড়ে মেহমুদ আখতার কবুল করেছে সে পাক সেনার ৪০ নম্বর বালুচ রেজিমেণ্টের হাবিলদার হিসাবে কাজ করত৷ পরে ২০১৩ সালে সে আইএসআই-তে ডেপুটেশনে কাজ করছে৷ তার আসল বাড়ি রাওয়ালপিন্ডির কাহুটার কাছে এক গ্রামে৷ আড়াই বছর দিল্লিতে আছে৷ রমজান ও সুভাষ জাঙ্গির তারই নেটওয়ার্কের লোক৷ তাকে নির্দিষ্ট কিছু ‘অ্যাসাইনমেণ্ট’ দিয়ে দিল্লিতে পাক দূতাবাসে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে৷

কী সেই অ্যাসাইনমেণ্ট? তা তদন্তের স্বার্থে বলতে চাননি পুলিশ কর্তা৷ পুলিশ জানিয়েছে, টাকার লোভ দেখিয়ে ভারতের বিভিন্ন শহরে মুসলিম যুবকদের ও হানিট্রাপের ফাঁদে ফেলে হিন্দু  যুবকদের এবং দরকার পড়লে সেনাকর্মীদেরও চর হিসাবে নিয়োগ করাটাই ছিল আখতারের প্রথম কাজ৷ সীমান্তে বিএসএফের মুভমেণ্ট, পাক সীমান্তে সেনা সরঞ্জামের স্থান বদল করার মতো তথ্য পেতে খুব পরিশ্রম করত সে৷

এবার পুলিশ কী করবে? জবাবে রবীন্দ্র যাদব বলেন, আমাদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে৷ খুব শীঘ্রই আরও বড় অভিযান চালানো হবে৷ ধরা হবে আরও পাক চরকে৷

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.