সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সুকুমার রায়ের কথায় এ যেন ঠিক ‘ছিল রুমাল, হল বিড়াল’! সৈয়দ মুহাম্মদ ইউসুফ শাহ ওরফে সৈয়দ সালাহউদ্দিন ছিল ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গি নেতা। ভোল পালটে হল পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ISI-এর পদস্থ আধিকারিক। অন্তত পাকিস্তানের নথিতে তাই দাবি করা হয়েছে। আর তাতেই আরও একবার স্পষ্ট হল পাকিস্তানে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ লড়াইয়ের ছবিটা।
পাকিস্তানের গোয়েন্দা অধি দপ্তরের নতুন নথিতে বলা হয়েছে, যে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিজবুল মুজাহিদিন (Hizbul Mujahideen) প্রধান সৈয়দ সালাহউদ্দিন (Syed Salahuddin) আইএসআই-র সঙ্গে কাজ করছে। নথিতে তাঁকে রীতিমতো আধিকারিক হিসবে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধুমাত্র হিজবুল নয়, সৈয়দ সালাহউদ্দিন ইউনাইটেড জিহাদ কাউন্সিলেরও (UJC) প্রধান। পাকিস্তানের নথি বলছে, সালাহউদ্দিনের নিরাপত্তা ছাড়পত্র রয়েছে। তাই তাকে কোনও চেকপয়েন্টে অহেতুক আটকানো যাবে না। এই মর্মে ডিরেক্টর তথা কমান্ডিং অফিসার ওয়াজাহাত আলি খানের সই করা একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার, যাতে তিনি যাতায়াত করে, সেটিকে সুরক্ষা বিধির অনুমোদন দেওয়া আছে। তিনি এই বিভাগের আধিকারিক। তাই তাকে অহেতুক চেক পয়েন্টে আটকানো যাবে না।”
[আরও পড়ুন ; যুদ্ধ শুরু হলে ভারতের জেতার কোনও সুযোগ নেই, ফের হুমকি চিনের]
এই চিঠিই পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কাজ করার মিথ্যাচারকে প্রকাশ্যে এনেছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গত জুন মাসে ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (FATF) পাকিস্তানকে পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ বৈঠক পর্যন্ত সময়সীমা দিয়েছে। পাকিস্তানকে অ্যাকশন প্ল্যান মেনে চলার জন্যও পরামর্শ দিয়েছিল ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স। কিন্তু তারপরেও পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ করল। ফলে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের মনোভাব নিয়ে আরও একবার প্রশ্ন উঠে গেল।