সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাফল্যের বুক বাজালেও বাস্তবে মার্কিন হামলায় ইরানের বিশেষ কোনও ক্ষতিই হয়নি। সম্প্রতি পেন্টাগনের এমনই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম। আর এবার সেই প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের পরই মেজাজ হারালেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ। সরাসরি সাংবাদিকদের ভর্ৎসনা করে দাবি করলেন, ইচ্ছাকৃত ভাবে ইরানের পারমাণবিক ঘাঁটিতে মার্কিন হামলাকে ছোট করে দেখাতে চাইছে আমেরিকার সংবাদমাধ্যম।
তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ”এটা আপনাদের ডিএনএ, আপনাদের রক্তের মধ্যে রয়েছে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চিৎকার করা। কেননা আপনারা চান না উনি এমন ভয়ানক সাফল্য পান। আপনাদের ওই হামলা নিয়ে উল্লাস করতেই হবে! আপনাকে আশা করতে হবেই যে হয়তো এগুলি কার্যকর হয়নি?” এদিন হেগসেথকে স্পষ্টতই হতাশ দেখাচ্ছিল।
View this post on Instagram
পেন্টাগনের আধিকারিকদের গোপন সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে সম্প্রতি ইরানে মার্কিন হামলার এক রিপোর্ট তুলে ধরে সংবাদমাধ্যম সিএনএন। যেখানে দাবি করা হয়, মার্কিন বাঙ্কার ব্লাস্টার বোমায় ইরানের পরমাণু ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে ঠিকই, তবে তাতে ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প কয়েক মাস পিছিয়ে যাওয়া ছাড়া খুব বিশেষ ক্ষতি হয়নি। এদিকে এই হামলার পর মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, হামলার পেন্টাগনের তরফে একাধিক ছবি প্রকাশ করা হয়। সেখানেই স্পষ্ট যে ফরদোতে হামলা চালানো হলেও তাতে বিশেষ ক্ষতি হয়নি। এই কেন্দ্র জাগ্রোস পর্বতমালার ৪৫ থেকে ৯০ মিটার অর্থাৎ ১৫০ থেকে ৩০০ ফুট নিচে অবস্থিত। চলতি বছরের শুরুতেই ফরদোর ভৌগলিক অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল পেন্টাগন। যেখানে দাবি করা হয়, ৩০ হাজার পাউন্ডের GBU-57 বাঙ্কার ব্লাস্টার দিয়েও এই ঘাঁটি ধ্বংস করা যাবে না।
পাশাপাশি রিপোর্টের দাবি, মার্কিন হামলার আগেই অন্তত ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে ফেলে ইরান। যা দিয়ে তৈরি হতে পারে ১০টি পরমাণু বোমা। এই দাবি প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন পেন্টাগন কর্তা। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ”আমার জানা নেই, গোয়েন্দাদের তরফে এমন কোনও দাবি করা হয়েছিল বলে যে, সেগুলি জায়গামতো ছিল না।”