সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: প্রবল চাপের মুখে অবশষে পদত্যাগ করলেন সাউথ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি জ্যাকব জুমা। একাধিক দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারি মামলায় অভিযুক্ত তিনি। বেশ কয়েকমাস ধরেই তাঁর পদত্যাগের দাবি করে আসছিল শাসক দল ‘আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস’ বা এএনসি। বুধবার ওই দাপুটে নেতার ৯ বছরের শাসনকালে ইতি পড়ল।
[বলিভিয়ার কার্নিভালে মৃত অন্তত ৪০, আহত শতাধিক]
শাসক দল এএনসি-র সদস্য জুমা। সম্প্রতি দলের সঙ্গে মতবিরোধ দেখা দেয় তাঁর। তারপরই দুর্নীতির দায়ে তাঁকে প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়তে বলে দল। সেই নির্দেশে কর্ণপাত না করায় বৃহস্পতিবার সংসদে আস্থা ভোটের কথা বলে এএনসি। ভোটে হারের লজ্জা এড়াতেই পদত্যাগ করলেন জুমা বলেই মনে করা হচ্ছে। ৭৫ বছর বয়সী এই নেতার বিরুদ্ধে কোটি কোটি মার্কিন ডলার আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পড় সাংবাদিকদের জুমা জানান, দলের সঙ্গে কোনও সংঘাত নেই তাঁর। তিনি দলের অনুগত সৈনিক। দোল জা সিদ্ধান্ত নেবে তাই মেনে নেবেন তিনি। গত ডিসেম্বরেই জুমাকে হঠিয়ে এএনসি-র প্রেসিডেন্ট পদে বসানো হয় তাঁর সহকারী সিরিল রামাফোসাকে। জুমার পদত্যাগের পর আপাতত দেশের দায়ভার সামলাচ্ছেন রামাফোসা।
সম্প্রতি একাধিক দুর্নীতি মামলায় বেকায়দায় পড়েছেন জুমা। অভিযোগ, ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রভাবশালী গুপ্তা পরিবারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার এই ব্যবসায়ী পরিবারকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে সুযোগ-সুবিধা পায়ে দিয়েছেন জুমা। পরিবর্তে তাঁদের থেকে প্রচুর অর্থ নিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে জুমার। ‘সাদা চামড়া’দের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভ্যুত্থানের সাজা হিসেবে নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে রবেন দ্বীপে ১০ বছর জেলে ছিলেন জুমা।
[নতুন ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র বানাচ্ছে পাকিস্তান, দাবি আমেরিকার]
‘অ্যাবসলিউট পাওয়ার করাপ্টস অ্যাবসলিউটলি’, এই প্রবাদটি সত্যি হয়েছে এককালের বিদ্রোহীর ক্ষেত্রে বলেই মনে করছেন অনেকে। ছয়ের দশকে বর্ণভেদ ঘোঁচাতে ‘গোড়া’দের বিরদ্ধে অস্ত্র তুলে নিয়েছিলেন এই জুলু নেতা। আনুষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও জীবন ও মানবতার পাঠ শিখেছিলেন তিনি। তবে ২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট পদে বসে ক্ষমতার আসক্ত হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। রাজনীতিবিদের একাংশের দাবি, ম্যান্ডেলার স্বপ্নের দেশ গড়ার কথা ভুলে গিয়েছেন জুমা।