সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মহাকাশ বিজ্ঞানে এবার সাবালক বাংলাদেশ। ইতিহাস সৃষ্টি করে ফ্যালকন-৯ রকেটে চেপে মহাজাগতিক রহস্যের সন্ধানে পাড়ি দেয় বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’। স্থানীয় সময় অনুযায়ী শুক্রবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে কক্ষপথের দিকে রওনা দেয় দেশের প্রথম উপগ্রহটি। সাফল্যের সঙ্গে সেটিকে স্থাপন করা হয় কক্ষপথে।
Successful deployment of Bangabandhu Satellite-1 to geostationary transfer orbit confirmed. pic.twitter.com/aX7kRQtBpZ
Advertisement— SpaceX (@SpaceX) May 11, 2018
এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে কৃত্রিম উপগ্রহের অধিকারী বিশ্বের ৫৭তম দেশের মর্যাদা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। আমেরিকার বেসরকারি সংস্থা ‘স্পেসএক্স’-এর অত্যাধুনিক ফ্যালকন-৯ রকেটে উড়ান ভরে বঙ্গবন্ধু-১। কেপ ক্যানাভেরালে রকেটটির উৎক্ষেপণ দেখতে যান বহু মানুষ। এই স্যাটেলাইট তৈরি এবং উৎক্ষেপণের জন্য প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে হাসিনা সরকার। এই সাফল্যকে জাতীয় গৌরবের অংশ হিসেবেই দেখছে বাংলাদেশ। কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে যখন উপগ্রহটি মহাকাশের দিকে উড়ান ভরে তখন খুশির হওয়া বয়ে যায় বাংলাদেশে।
[‘আগামী ২০ বছরেই মঙ্গলে পা রাখবে মানুষ’]
প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তান বহুদিন আগেই মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে। এবার সেই কাজই করে দেখাল বাংলাদেশ। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বঙ্গবন্ধু-১। দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় টেলিকম ও ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে উপগ্রহটি। বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলির সম্প্রচারে সুবিধা হবে। আরও উন্নত হবে ডিটিএইচ পরিষেবা। ট্রিপল প্লে- অর্থাৎ ডিশ, ইন্টারনেট ও কলিং- এ তিনটি পরিষেবা একসাথে ডিটিএইচ এর মাধ্যমে পাওয়া যাবে। বর্তমানে বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলো অ্যাপস্টার সেভেন নামের একটি বিদেশি স্যাটেলাইট ব্যবহার করছে। এর জন্য ভাড়া দিতে হয় তাদের।
উল্লেখ্য, এই স্যাটেলাইট প্রথমে ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর উৎক্ষেপণের কথা ছিল। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় ইরমার কারণে এর উৎক্ষেপণ স্থগিত রাখা হয়। ‘বঙ্গবন্ধু-১’ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য রাশিয়ার স্যাটেলাইট প্রতিষ্ঠান ‘ইন্টারস্পুটনিক’-এর থেকে কক্ষপথ স্লট ক্রয় করে বাংলাদেশ। এর জন্য প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার ব্যয় করা হয়।
[‘ফ্যালকন হেভি’র জ্বালানি পুড়ে তৈরি হচ্ছে কার্বন, মহাকাশে বাড়ছে জঞ্জাল]