সুকুমার সরকার, ঢাকা: বাংলাদেশে জোরকদমে চলছে জঙ্গিদমন অভিযান। বৃহস্পতিবার, রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার হাবাসপুরের একটি জঙ্গি ডেরায় হানা দেয় পুলিশ। শুরু হয় প্রবল গুলির লড়াই। ওই অভিযানে নিহত হয় ৫ জঙ্গি ও ১ দমকল কর্মী।
গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার হিবজুর আলম মুন্সি জানিয়েছেন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বুধবার রাত থেকেই বাড়িটি ঘিরে ফেলে নিরাপত্তাকর্মীরা। পালাতে না পেরে পুলিশের উদ্দেশ্য গুলি ছোড়ে জঙ্গিরা। শেষমেশ আজ সকাল সাতটা নাগাদ বাড়ির ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটে পাঁচ জঙ্গিরা। বিস্ফোরণে দুই পুলিশকর্মী ও এক দমকলকর্মী আহত হয়েছেন। তাঁদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরি জানিয়েছেন, সুমাইয়া নামের এক মহিলা জঙ্গি আত্মসমর্পণ করেছে। ডেরা থেকে দুটি শিশুকেও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
[ছত্তিশগড়ে মাওবাদীদের সঙ্গে বিএসএফের তীব্র গুলির লড়াই]
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত জঙ্গিরা একই পরিবারের সদস্য। নিহতরা হচ্ছে হচ্ছে সাজ্জাদ অলি ও বেলি নামের এক জঙ্গি দম্পতি। তাদের দুই ছেলে-আল আমিন, সয়ায়য়াদ ও মেয়ে করিমা। তাদের ডেরা থেকে প্রচুর পরিমাণে বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। দেশে বড়সড় নাশকতা চালানোর ছক কষছিল জঙ্গিরা বলে জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, রবিবার রাতে রাজধানীর ঢাকার বুক থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় ছয় জঙ্গিকে। ধৃতদের মধ্যে আহসান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপকও ছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রাজধানীর তিঝিল ও আশুলিয়া এলাকেভ অভিযান চালিয়ে ওই জঙ্গিদের গ্রেপ্তার করে পুলিশের সন্ত্রাসদমন শাখা। ধৃত জঙ্গিরা আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ও জেএমবি জঙ্গিগোষ্ঠীর সদস্য বলে জানিয়েছে প্রশাসন। ধৃতদের থেকে বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছিল প্রশাসন।
[প্রধানমন্ত্রী এসে বারণ করলেও গাড়িতে লালবাতি ব্যবহার করব: বরকতি]
উল্লেখ্য, দুদিন আগেই নদীয়া সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় জঙ্গি ডেরায় পুলিশের অভিযানে নিহত হয় দুই জঙ্গি। এর আগে এপ্রিলে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটি গ্রামে আবদুল্লাহ নামে ধর্মান্তরিত এক ব্যক্তির বাড়ি ঘিরে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দুদিনের অভিযান শেষে ওই জঙ্গি আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হলেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। ওই অভিযানের এক সপ্তাহের মাথায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের আরেক জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে সোয়াটের ‘অপারেশন ঈগল হান্ট’ শেষে গত ২৭ এপ্রিল চারজনের দেহ উদ্ধার হয়, যারা নিজেদের ঘটানো বিস্ফোরণে নিহত হয় বলে পুলিশের দাবি।
[ওড়িশার নন্দনকানন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই খুদে ‘বাহুবলী’]