সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ফের সন্ত্রাসবাদী হামলায় রক্তাক্ত আফগানিস্তান।এবার জঙ্গিদের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ১০ পুলিশকর্মী। মঙ্গলবার বাগলান প্রদেশের খাজা আলান জেলায় আফগান পুলিশের একটি ফাঁড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায় জেহাদিরা।
বুধবার বাগলান প্রদেশের পুলিশ মুখপাত্র আহমেদ জায়েদ বাসারত বলেন, পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালিয়েছে তালিবান জঙ্গিরা। তাদের গুলির পালটা জবাব দেন পুলিশকর্মীরা। এই হামলার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত বাহিনী সেখানে পাঠানো হয়। হামলায় ১০ জন পুলিশকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তালিবানের তরফেও টুইট করে হামলার দায় স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তালিবানের শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তালিবান। এদিনের ঘটনায় শান্তি বৈঠক ধাক্কা খেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কয়েক দিন আগেও কুন্দুজ প্রদেশে একটি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চলিয়েছিল তালিবান। ওই হামলায় নিহত হয়েছিলেন ১১ পুলিশকর্মী। পাশাপাশি নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে খতম হয়েছিল ১০ জঙ্গিও। গত ডিসেম্বর মাসেই খতম হয় বিশ্বসন্ত্রাসের অন্যতম মুখ তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের কম্যান্ডার কারি সইফুল্লা মেহসুদ। আফগানিস্তানের খোস্ত প্রদেশের গুলু শিবিরের বাইরে তাকে গুলিতে ঝাঁজরা করে দিয়েছিল বন্দুকবাজরা।
উল্লেখ্য, গত বছর থেকে হিংসায় বিধ্বস্ত আফগানিস্তানে যুদ্ধ থামাতে এবং শান্তি ফেরাতে তালিবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে। শান্তি ফেরাতে সব পক্ষকেই নিয়ে আন্তর্জাতিক শান্তি বৈঠক হয় দোহায়। ওই শান্তি আলোচনার উদ্যোক্তা ছিল জার্মানি এবং কাতার। তাতে যোগ দিয়েছিলেন তালিবান প্রতিনিধিরা, আফগান সরকারের প্রতিনিধিরা, আফগানিস্তানের নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা, উচ্চশিক্ষিত এবং রাজনীতিতে সক্রিয় আফগান মহিলারা। তবে তারপরই কাবুলে তালিবান হানায় সেই প্রক্রিয়া থমকে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তানে তালিবানর সঙ্গে আমেরিকার সমঝোতা হলে, সমস্যা বাড়বে ভারতের। ওই দেশ থেকে মার্কিন সেনা সরে গেলে, হাক্কানি নেটওয়ার্ক-সহ অন্যান্য জেহাদি সংগঠনগুলিকে ভারতের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে পাকিস্তান।