সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আমেরিকা ও চিনের মধ্যে তুঙ্গে বাণিজ্যিক লড়াই। এবার গুলি-বোমা নয়। হাতিয়ার ডলার ও ইউয়ান। শুল্ক বা কর চাপিয়ে এবার একে অপরের অর্থনীতিকে নিশানা করছে ওয়াশিংটন ও বেজিং।
বুধবার মার্কিন পণ্যের আমদানির উপর ৬১১.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের শুল্ক চাপায় চিন। নিয়মানুযায়ী এই পদক্ষেপের কথা বিশ্ব বাণিজ্যিক সংস্থাকে (WTO) জানিয়েছে বেজিং। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রধানত শুয়োরের মাংস, বাদাম ও ইথানলের মতো পণ্য আমদানি করে চিন। প্রায় ২.৭৫ বিলিয়ন ডলারের এই আমদানির উপরই এবার করের বোঝা চাপাল শি জিনপিং সরকার। কয়েকদিন আগেই চিনা অ্যালুমিনিয়াম ও স্টিলের আমদানির উপর কর চাপায় ট্রাম্প প্রশাসন। এদিনের পদক্ষেপে তারই পালটা দিল চিন।
[বিপাকে পাকিস্তান, হাফিজ সইদের রাজনৈতিক দলকে জঙ্গি তকমা আমেরিকার]
চিনা সরকারি সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, বিশ্ব বাণিজ্যিক সংস্থা ও তার সদস্য দেশগুলিকে শুল্ক আরোপ করার সিদ্ধান্তের কথা সরকারিভাবে জানিয়েছে বেজিং। এর আগে এপ্রিলের ২ তারিখ প্রায় ৩ বিলিয়ন মূল্যের মার্কিন পণ্য আমদানির ওপর শুল্ক চাপায় চিন। জিনপিং সরকারের এহেন পদক্ষেপে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক লড়াই আরও তীব্র হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, ক্ষমতার আসার পর থেকেই চিনের বিরুদ্ধে অস্তের শান দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজে তুখোড় ব্যবসায়ী। তাই চিনের বানিজ্যিক চাল সঠিকভাবেই বুঝতে পারছেন তিনি। ফলে মার্চের ২৩ তারিখ চিনা পণ্যের আমদানির ওপর বিশাল অঙ্কের শুল্ক চাপায় মার্কিন প্রশাসন। চিন থেকে প্রায় ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করে আমেরিকা। এই বিপুল আমদানির ওপর করের বোঝা চাপানোর ফলে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে চিনা সংস্থাগুলি।
বেজিং অভিযোগ জানিয়েছে, চিনা পণ্যে অবৈধভাবে শুল্ক চাপাচ্ছে আমেরিকা। তাদের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব বাণিজ্যিক সংস্থার নিয়মের পরিপন্থী৷ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চিনের বাণিজ্য। ভবিষ্যতে এমনটা চলতে থাকলে পালটা পদক্ষেপ করতে বাধ্য হবে তারা। সব মিলিয়ে দুই মহাশক্তির মধ্যে বাণিজ্যিক লড়াইয়ের ফল কিছুটা হলেও ভারতের ওপর পড়বে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
[ইউটিউবের হেডকোয়ার্টার্সে মহিলা বন্দুকবাজের হামলা, ছড়াল আতঙ্ক]