সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: করোনা ভাইরাসের হামলায় টালমাটাল গোটা বিশ্বের অর্থনীতি। রীতিমতো হাঁটু গেড়ে বসে পড়তে বাধ্য হয়েছে আমেরিকার মতো শক্তিধর দেশও।চরম ক্ষতি হয়েছে কৃষি ও উৎপাদন ক্ষেত্রে। এহেন সময়ে, পরিস্থিতি সামাল দিতে কৃষকদের জন্য ১৯ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজ ঘোষণা করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
[আরও পড়ুন: করোনা LIVE UPDATE: ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ১৪ হাজার, মৃত ৪৮০]
.@SecretarySonny and @USDA will be implementing a $19 billion relief program for our great farmers and ranchers! pic.twitter.com/w1TZDOnNMn
Advertisement— The White House (@WhiteHouse) April 17, 2020
গত ২৪ ঘণ্টায় আমেরিকায় মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৮৫৬ করোনা আক্রান্তের। দেশে মৃত্যুমিছিল অব্যাহত থাকলেও সদ্য ধাপে ধাপে লকডাউন তুলে নেওয়ার কথা বলেছেন ট্রাম্প। তারপর শুক্রবার কৃষকদের জন্য আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করে মার্কিন অর্থনীতির উপর কতটা চাপ পড়ছে তা একপ্রকার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন তিনি। হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, ঘোষিত ১৯ বিলিয়ন আর্থিক প্যাকজেরে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সরাসরি কৃষকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। বাকি ৩ বিলিয়ন খাবার কেনা ও বণ্টনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, করোনা ভাইরাসে মৃত্যু-আক্রান্তের সর্বোচ্চ শিখর পেরিয়ে এসেছে আমেরিকা। কিন্তু একথা বলার একদিন পরই আবার মৃত্যুর রেকর্ড গড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ধাপে ধাপে লকডাউন তোলার কথা ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মৃত্যুর এই পরিসংখ্যানের পরে হোয়াইট হাউসকে এ নিয়ে নতুন করে ভাবনা-চিন্তা করতে হতে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিশ্বে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যায় আমেরিকা শীর্ষে। এর পরেই রয়েছে ইটালি (২২ হাজারের বেশি)। যদিও ইটালির জনসংখ্যা আমেরিকার প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ। এর পর স্পেনে মৃত্যু হয়েছে ১৯ হাজারের বেশি এবং তার পর ফ্রান্স, মৃত প্রায় ১৮ হাজার জন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এর আগে এক দিনে এত মানুষের মৃত্যু হয়নি। তবে হোয়াইট হাউস আগেই জানিয়েছিল, নিউ ইয়র্কে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে। তাঁদের অনেকেরই মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা হবে। গত সপ্তাহে নিউ ইয়র্ক প্রশাসন ঘোষণা করেছিল, করোনা আক্রান্ত সন্দেহে মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৭৭৮ জনের। তাঁদের মৃত্যু করোনার কারণেই কিনা, ধাপে ধাপে তা নিশ্চিত করা হবে। হোয়াইট হাউসের একটি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, এই ৪ হাজার ৪৯১ জনের মধ্যে ওই সম্ভাব্য মৃতদের একটা বড় অংশ থাকতে পারে। সেই অংশটি বাদ দিলে অবশ্য মৃতের সংখ্যা রেকর্ড ছাড়ায়নি।
অন্যদিকে, বিশ্ব-মহামারীতে গত কয়েকদিন ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ ঘরবন্দি। লকডাউনের জেরে ভেঙে পড়ছে মার্কিন অর্থনীতি। সেই চিন্তায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানালেন, সব দোকানপাট, অফিস বন্ধ রেখে সেভাবে কোনও লাভ হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন না। তাই তিনি এবার আস্তে আস্তে ব্যবসায়ীদের কথা ভাবতে শুরু করছেন। সব একসঙ্গে খোলা হবে না। তবে তিন ধাপে লকডাউন তোলার ইঙ্গিত দেন। কারণ, দেশজুড়ে বন্ধ হোটেল, রেস্টুরেন্ট, স্কুল ও অন্যান্য অনেক খাদ্যপণ্যের দোকান। ফলে বহু কৃষক নিজেদের উৎপাদিত দুধ, ডিম ও সবজি সরবরাহ করতে পারছেন না, বাধ্য হচ্ছেন এসব ফেলে দিতে। ‘ডেয়ারি ফারমার্স অব আমেরিকা’র তথ্য বলছে, আমেরিকার কৃষকরা প্রতিদিন ৩৭ লক্ষ গ্যালন দুধ ফেলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রতি সপ্তাহে চিকেন প্রসেসরে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ৭ লক্ষ ৫০ হাজার ডিম। আর মাঠের ফসল মাঠেই পড়ে রয়েছে।