২০০ কোটি বছরের পর্বতে কেন পুঁজিপতিদের নজর? আরাবল্লীর ‘মৃত্যু’ ডেকে আনবে বিরাট বিপর্যয়!
কেন এত বিতর্ক ‘খনিজের জাদুঘর’ আরাবল্লী নিয়ে?
গোটা পৃথিবীতেই মৃত্যুমুখে সবুজ প্রকৃতি, মানুষ তবু গাজা, ইউক্রেন, যুদ্ধ, ধর্ম নিয়ে ব্যস্ত। আত্মঘাতী হোমো সেপিয়েন্সের দল এবার উন্নয়নের ‘অস্ত্রে’ বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন পর্বত আরাবল্লী ধ্বংসের ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করেছে! অভিযুক্ত কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। এমনকী সুপ্রিম রায় নিয়েও উষ্মা প্রকাশ করছেন বিজ্ঞানী ও সমাজকর্মীরা। কেন এত বিতর্ক হচ্ছে ‘খনিজের জাদুঘর’ আরাবল্লী নিয়ে?
আরও পড়ুন:
খনিজ ছাড়াও আরবল্লী থেকে আরও অনেক ভাবে উপকৃত মানুষ। যেমন, থর মরুভূমি থেকে উড়ে আসা বালি এবং ধূলিকণাকে রুখে দেয় এই অনুচ্চ পাহাড়শ্রেণি। এমনকী দিল্লির বায়ুদূষণ কমাতেও সাহায্য করে। সঙ্গে নিকটবর্তী ৩৭টি জেলার বহু সম্প্রদায়ের মানুষ প্রয়োজনীয় জ্বালানি কাঠ, পশুখাদ্য, ভেষজ গাছ সংগ্রহ করেন আরাবল্লির বনভূমি থেকে।
আরও পড়ুন:
আরবল্লী নিছক একটি পর্বত বলতে নারাজ প্রকৃতিপ্রেমীরা। পরিবেশ রক্ষক নিলম আহলুওয়ালির দাবি, পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন পর্বতকে ধ্বংস করে ফেলতে চাইছে সরকার। যা কেবল মরভূমির প্রসারে প্রাকৃতিক বাধা হিসেবেই কাজ করে না, দেশের একটা বড় অংশে জল ও বিশুদ্ধ বাতাস সরবরাহ করে। আরবল্লী রক্ষায় আন্দোলনকারী সাংবাদিক অরবিন্দ চোতিয়া বলেন, ‘একটা ১০০ মিটার ফিতে দিয়ে আরাবল্লিকে মাপা সম্ভব? এটি শুধু একটা পাহাড় নয়, এটা আমাদের লাইফলাইন।’
সমাজমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব লিখেছেন, ‘‘আরাবল্লির মোট ১.৪৪ লক্ষ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে খনির কাজ কেবল ০.১৯ শতাংশ এলাকায় হতে পারে। বাকি সমগ্র আরাবল্লি সংরক্ষিত এবং সুরক্ষিত।’’ সরকার আরও জানিয়েছে, আরাবল্লির জন্য প্রাথমিক হুমকি হল, অবৈধ এবং অনিয়ন্ত্রিত খনন। তা রুখতে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। এরপরেও অবশ্য ভবি ভুলতে নারাজ।
পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীদের দাবি, ৬৯২ কিলোমিটার দীর্ঘ আরাবল্লি পাহাড়শ্রেণিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত অঞ্চল’ ঘোষণা করুক সরকার। সেখানে যেন সব ধরনের খননকাজ অবিলম্বে বন্ধ করা হয়। সোমবারই আরাবল্লী মামলায় সুপ্রিম কোর্টের ২০ নভেম্বরের রায়ের উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। শেষ পর্যন্ত এ যাত্রায় কি বেঁচে যাবে আরবল্লী? সেই সঙ্গে বিরাট বিপর্যয় থেকে বাঁচবে মানুষও?