হালকা উপসর্গকে অবহেলা নয়, শীতেই বাড়ে রোগের ঝুঁকি, কোন কোন লক্ষণে সতর্ক হবেন?
এই লক্ষণগুলি জানান দেবে শরীরে সংক্রমণ হয়েছে কি না।
আরও পড়ুন:
শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা যখন ৯৯° ফারেনহাইট থেকে ১০০° ফারেনহাইটের মধ্যে ঘোরাফেরা করে, তখন তাকে 'লো-গ্রেড ফিভার' বলা হয়। শীতকালে কোনও সংক্রমণ ঘটলে শরীর তা প্রতিহত করার চেষ্টা করে। ফলে শরীরের তাপমাত্রা সামান্য বেড়ে যায়। অনেকে একে সাধারণ ক্লান্তি ভেবে ভুল করেন। কিন্তু যদি এই জ্বর ২-৩ দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তবে বুঝতে হবে ভেতরে কোনও 'ইনফ্ল্যামেশন' বা প্রদাহ চলছে। একে অবহেলা করলে সংক্রমণ রক্তে বা...
সংক্রমণের সময় শরীরের সমস্ত শক্তি শ্বেত রক্তকণিকা তৈরিতে ব্যয় হয়। এর ফলে রোগী তীব্র অবসাদ বা 'ম্যালাইজ' অনুভব করেন। পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরেও যদি শরীর ম্যাজম্যাজ করে বা হাত-পায়ে জোর না পাওয়া যায়, তবে তা ভাইরাল লোড বাড়ার লক্ষণ হতে পারে। ডাক্তারি পরিভাষায় একে 'পোস্ট-ভাইরাল সিনড্রোম'-এর প্রাথমিক ধাপ বলে। এই ক্লান্তি কেবল শারীরিক নয়, মানসিক জড়তাও তৈরি করে। শীতকালীন অলসতা ভেবে একে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়,...
আরও পড়ুন:
শীতকালীন সংক্রমণের অন্যতম সাধারণ লক্ষণ হল 'ফ্যারিনজাইটিস' বা গলার ভেতরে প্রদাহ। অনেক সময় ঘাড়ের বা কানের পেছনের গ্রন্থি বা 'লিম্ফ নোড' ফুলে ওঠে এবং স্পর্শ করলে ব্যথা লাগে। লিম্ফ নোড হল শরীরের ফিল্টারেশন সিস্টেম। যখনই কোনও ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস শরীরে ঢোকে, এই গ্রন্থিগুলি সক্রিয় হয়ে ওঠে। যদি খাবার গিলতে কষ্ট হয় বা গলার স্বর বদলে যায় (হোর্সেনেস), তবে বুঝতে হবে সংক্রমণটি উপরিভাগ থেকে গভীরে প্রবেশ...
ভাইরাল ইনফেকশনের অন্যতম উপসর্গ হল 'ম্যালজিয়া' বা পেশির তীব্র ব্যথা। শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতির কারণে আমাদের ইমিউন সিস্টেম সাইটোকাইন নামক এক ধরণের প্রোটিন নিঃসরণ করে, যা পেশিতে প্রদাহ ও ব্যথা তৈরি করে। শীতকালে এমনিতেই বাতাসের শুষ্কতা ও ঠান্ডায় পেশি সংকুচিত থাকে। তার ওপর সংক্রমণের এই ব্যথা রোগীকে কাবু করে ফেলে। অনেকে একে কেবল শীতের ব্যথা ভেবে পেইনকিলার খান। কিন্তু পেইনকিলার কেবল উপসর্গ কমায়, সংক্রমণের মূল কারণ...
বায়ুদূষণ ও ভাইরাসের কারণে শীতকালে শ্বাসনালীর সংক্রমণ বা 'আপার রেসপিরেটরি ট্রাক্ট ইনফেকশন' খুব বেড়ে যায়। যদি কাশির সাথে শ্বাস নিতে কষ্ট হয় বা বুকের খাঁচায় চাপ অনুভব হয়, তবে তা ফুসফুসে সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। ডাক্তারি পরিভাষায় একে 'ডিসপনিয়া' বলা হয়। পিএম ২.৫ কণার প্রভাবে ফুসফুসের অ্যালভিওলাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে অক্সিজেন আদান-প্রদান ব্যাহত হয়। সংক্রমণের এই পর্যায়ে কাশির সিরাপ খেয়ে সময় নষ্ট করা বিপদজনক। বিশেষ...
শরীর যখন সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে, তখন পরিপাকতন্ত্রের কার্যকারিতা কিছুটা কমে যায়। একে বলা হয় 'অ্যানোরেক্সিয়া'। খাবারের গন্ধ সহ্য করতে না পারা বা বমি বমি ভাব (নসিয়া) সংক্রমণের একটি পরোক্ষ লক্ষণ হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে শীতকালীন ফ্লু থেকে পেটের সমস্যা বা 'গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস' দেখা দেয়। এর ফলে শরীরে ডিহাইড্রেশন ঘটে। যদি নিয়মিত খাবারের অভ্যাসে হঠাৎ পরিবর্তন আসে এবং ওজনে ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়, তবে বুঝতে হবে...
সংক্রমণের সময় মস্তিষ্কের চারপাশের রক্তবাহী ধমনীগুলিতে চাপ সৃষ্টি হতে পারে, যাকে 'ভাস্কুলার হেডেক' বলা হয়। সাইনাসের সংক্রমণের কারণেও কপালে ও চোখে তীব্র ব্যথা হতে পারে। শীতকালে ঠান্ডার কারণে এই ব্যথা আরও তীব্র অনুভূত হয়। এছাড়া সংক্রমণের প্রভাবে মেজাজ খিটখিটে হওয়া, মনোযোগের অভাব বা ঘুমের সমস্যা হতে পারে। এটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে সংক্রমণের আগাম সতর্কবার্তা হতে পারে।
সংক্রমণের অনেক লক্ষণ ত্বকের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। কোনও কোনও ভাইরাসের ক্ষেত্রে শরীরে ছোট ছোট লাল দানা বা 'ইরাপশন' দেখা দিতে পারে। এছাড়া শীতকালে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হওয়ায় সংক্রমণের কারণে আঙুলের মাথা নীলচে হওয়া বা 'সায়ানোসিস' দেখা দিতে পারে। যদি ত্বকে অস্বাভাবিক চুলকানি বা ছোপ ছোপ দাগ দেখা যায় যা সাধারণ ময়েশ্চারাইজারে সারছে না, তা নিশ্চিত ভাবে কোনও সংক্রমণ হতে পারে। ডাক্তারি পরিভাষায় একে 'কিউট্যানিয়াস ম্যানিফেস্টেশন'...
উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে শীতকালীন সংক্রমণ কিডনির ওপর বড় প্রভাব ফেলে। যদি প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায় বা প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়ে যায়, তবে তা শরীরে সংক্রমণের কারণে তৈরি হওয়া 'মেটাবলিক স্ট্রেস'-এর কারণ। সংক্রমণের প্রভাবে রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ঠান্ডায় জল কম খাওয়ার প্রবণতা এবং সংক্রমণ—এই দুইয়ের মিলিত প্রভাবে রেনাল সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংক্রমণের এই লক্ষণটি প্রায়ই অন্তিম পর্যায়ে ধরা পড়ে।...