আলোয় আলো আকাশ… নরওয়ে, আন্টার্কটিকার বাইরেও ছড়াল মেরুপ্রভার দীপ্তি! দেখুন ছবি
রাতের আকাশে দ্যুতি ছড়ানো অরোরা বোরিয়ালিস দেখতে বহু পর্যটক ভিড় জমান।
সেই কোন ছোটবেলায় ভূগোলে পড়া মেরুদেশ, সুমেরুপ্রভা, কুমেরুপ্রভার কথা। পড়তে পড়তে পাঠ্যবই থেকে বেরিয়ে কখন যেন কেউ কেউ হারিয়ে গিয়েছি স্বপ্নের দেশে। ভাবনায় তখন আকাশ ছড়ানো আলোর ছবি। সেসব কখনও বাস্তবে চাক্ষুষ করা সম্ভব, এ তো ভাবনাতেও ছিল না। কিন্তু আজকের যুগে অরোরা বোরিয়ালিস, অরোরা অস্ট্রেলিস আর স্বপ্নের জগতে সীমাবদ্ধ নেই। বরং মেরুদেশের আলোকপ্রভা এখন পর্যটনের নতুন দিশা। রাতের আকাশে আলোর খেলা দেখবেন বলে প্রচুর...
কিন্তু আজকের যুগে অরোরা বোরিয়ালিস, অরোরা অস্ট্রেলিস আর স্বপ্নের জগতে সীমাবদ্ধ নেই। বরং মেরুদেশের আলোকপ্রভা এখন পর্যটনের নতুন দিশা। রাতের আকাশে আলোর খেলা দেখবেন বলে প্রচুর পর্যটক পাড়ি দেন এসব জায়গায়। প্রকৃতিও তাঁদের ফেরায় না। নিজের অপূর্ব সৌন্দর্য দর্শনে কার্পণ্য করে না। এখন তাঁদের আনন্দ দ্বিগুণ। সুমেরু ও কুমেরুর অন্তর্গত দেশগুলির বাইরে সম্প্রতি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকেই দেখা যাচ্ছে মেরুপ্রভা।
আরও পড়ুন:
সুমেরুর আকাশে আলোকছটার নাম অরোরা বোরিয়ালিস, কুমেরু প্রদেশের আলো অরোরা অস্ট্রেলিস বলে পরিচিত। সম্প্রতি দেখা গিয়েছে, এসব দেশে ডুবন্ত সূর্যের আলোর সঙ্গে মিলেমিশে যাচ্ছে মেরুপ্রভাও! আর আকাশে এই আলোর খেলা দেখা যাচ্ছে একেবারে ভোরে, সূর্যোদয় পর্যন্ত। তাই অনেক বেশি মানুষের কাছে মেরুপ্রভার ম্যাজিক দেখার সুযোগ মিলছে।
মেরুদেশের এই অরোরা বোরিয়ালিস ও অরোরা অস্ট্রেলিসের খেলার পিছনে কিন্তু রয়েছে খাঁটি বিজ্ঞান। সৌরঝড়ের জেরে সৃষ্ট আলোই হল অরোরা। পৃথিবীর দুই মেরুদেশ ঘুরেফিরে সূর্যের সবচেয়ে কাছে চলে আসে, সৌরঝড়ের মুখে পড়ে। এর ফলে তার সংলগ্ন বায়ুমণ্ডলে কঠিন পদার্থকণা এবং গ্যাসীয় কণার উপর সূর্যালোকে প্রতিসরণে এই মেরুপ্রভা। নানারকম গ্যাসের নানা রং। আর সেটাই প্রতিফলিত হয় মেরুদেশের বায়ুমণ্ডলে।
আরও পড়ুন:
একরাতের মধ্যে আলোর রং এতবার বদলে যাওয়ার মধ্যেও লুকিয়ে সেই বিজ্ঞান। বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা, বায়ুমণ্ডলে মোট ২১ শতাংশ অক্সিজেন গ্যাস রয়েছে। সৌরালোকের দাপটে তা উত্তপ্ত হয়ে সবুজ আলো প্রতিফলিত করে। নাইট্রোজেন গ্যাসের পরিমাণও বায়ুমণ্ডলে বেশি। তা তপ্ত হলে সেখান থেকে প্রতিভাত হয় বেগুনি বা গোলাপি রঙের আলো। ছবি: ফেসবুক।
সম্প্রতি ইউরোপ ও আন্টার্কটিকার বাইরেও যেভাবে মেরুপ্রভার অপূর্ব সৌন্দর্য দেখা যাচ্ছে, তাতে আগ্রহী মহল আহ্লাদে আটখানা হলেও বিজ্ঞানীরা খানিকটা চিন্তিত। নরওয়ের 'অরোরা' গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, বায়ুমণ্ডলের যে স্তর ভেদ করে অরোরা ছড়াচ্ছে, তা ওজোন স্তরেও প্রভাব ফেলতে পারে। অরোরা সাধারণত উচ্চমাত্রার শক্তিসম্পন্ন সৌরকণার সমাহার। ওজোন স্তরে তা প্রভাব ফেললে পৃথিবীর বিপদ বাড়বে। ছবি: ফেসবুক।