গোপন হারেমে অভিসার, সাফাইকর্মী থেকে বারবণিতা বাদ যাননি কেউ! প্রকাশ্যে পুতিনের যৌনকেচ্ছা
রাতারাতি বিপুল ধনী হয়ে ওঠেন পুতিনের শয্যাসঙ্গিনীরা।
সময়টা ২০২১ সালের মাঝামাঝি। রুশ সাংবাদিক রোমান বাদনানির ঘুম ভাঙল পুলিশের ডাকে। দরজা খুলতেই রুশ গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবির ৬ থেকে ৮ জন সাদা পোশাকের কর্তা বাদনানির ঘরে ঢুকে শুরু করল তল্লাশি। সাংবাদিককে নিয়ে যাওয়া হল নিকটবর্তী থানায়। সেখানে ঘণ্টা চারেক জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রশাসন জানাল, বাদনানি নাকি বিরাট আর্থিক কেলেঙ্কারিতে লিপ্ত এবং দেশে সামরিক অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্র করছেন। যদিও বাস্তবে তাঁর 'অপরাধ' ছিল এক যুবতীর সাক্ষাৎকার প্রকাশ...
আরও পড়ুন:
বইয়ে বলা হচ্ছে, দাম্পত্য জীবনে বাইরে পুতিনের অন্ধকার জীবন নেহাত কম নয়। সেই সময় সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি ট্রিপ ক্লাব লুনাতে নিয়মিত যেতেন পুতিন। ক্লাবের দ্বিতীয় তলায় পুতিনের জন্য ছিল একটি বিশেষ কক্ষ। নর্তকীদের সঙ্গে সময় কাটাতেন তিনি। পুতিনের তৎকালীন দেহরক্ষী রোমান সেপভের ক্লাবটি চালাতেন। দাবি করা হয়, দ্বিতীয়তলার ওই কক্ষ ছিল পুতিনের গোপন হারেম। উল্লেখ্য, মুসলিমদের মধ্যে এই হারেম ঘরের প্রচলন রয়েছে। ক্ষতাশালী মুসলিমরা স্ত্রী,...
আরও পড়ুন:
বইয়ে আরও দাবি করা হয়েছে, পুতিনের প্রথম বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক স্ট্রিপারের সঙ্গে নয়, বরং এক সুন্দরী সাফাইকর্মীর সঙ্গে। যার নাম স্বেতলানা ক্রিভোনোগিখ। ১৯৯৯ সালে এই সম্পর্কের সূত্রপাত। যখন পুতিন ছিলেন রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে অনেকখানি এগিয়ে। এই সম্পর্ক থেকেই ২০০৩ সালে ক্রিভোনোগিখের একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। যাঁর নাম এলিজাভেটা (এখন লুইজ রোজোভা)। এই তরুণীর সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন সাংবাদিক বাদানিন। পুতিনের চেহারার সঙ্গে তরুণীর...
২০০৪ সালে পুতিনের মন যায় ২১ বছর বয়সি আলিনা কাবায়েভার দিকে। এথেন্স অলিম্পিকে জিমন্যাস্টিকে স্বর্ণপদক জিতেছিলেন এই তরুণী। অলিম্পিক জয়ের পর ম্যাক্সিম ম্যাগাজিনের জন্য একটি আবেদনময়ী ছবি প্রকাশিত হয় তাঁর। যেখানে দেখা যায় নগ্ন কাবায়েভা একটি পশমে নিজের গোপনাঙ্গ আড়াল করে রেখেছেন। যা রীতিমত সাড়া ফেলে দেয়। পুতিনের সঙ্গে কাবায়েভার পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর কোচ ইরিনা ভিনার। ২০০৫ সালে কাবায়েভাকে 'ফরমেরি টু দ্য ফাদারল্যান্ড' পুরস্কার...
২০০৮ সালে এক চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশ্যে আসে। যেখানে দাবি করা হয় পুতিন এবং কাবায়েভা বিয়ে করতে চলেছেন। ইতালিতে সাংবাদিকদের তরফে পুতিনকে এই প্রশ্ন করা হলে তিনি রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। কড়া সুরে বলেন, "যারা মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে নাক গলায় আমি সেই সব লোকেদের ঘৃণা করি।" পরে দেখা যায় মস্কোর যে সংবাদপত্র এই খবর প্রকাশ করেছিল সেটি বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
রাশিয়ার 'অঘোষিত ফার্স্ট লেডি' হিসেবে পরিচিত এই কাবায়েভার দুই ছেলে ইভান (১০) এবং ভ্লাদিমির (৬)। ২০১৪ সালে তাঁকে জাতীয় সংবাদ সংস্থার প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। তাঁর বেতন ছিল ৭.৭ মিলিয়ন পাউন্ড। একই সঙ্গে তিনি ব্যাংক রসিয়ার একজন প্রধান শেয়ার হোল্ডার। জানা যায়, পুতিনের সঙ্গে সম্পর্ক শুরুর এক বছর পর ২০০৬ সালে কাবায়েভার প্রাক্তন প্রেমিক গায়ক মুরাদ নাসিরভ মস্কোর একটি বহুতলের পাঁচতলা থেকে পড়ে মারা...
তবে একটা বিষয় স্পষ্ট যে, যখনই পুতিন কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে আর্থিকভাবে ফুলেফেঁপে উঠেছেন সেই তরুণীরা। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে তাঁদের প্রাক্তন প্রেমিকদের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনা যাই হোক না, পুতিনকে নিয়ে বাদনানির লেখা বই সামনে আসার পর শোরগোল পড়ে গিয়েছে বিশ্বে। ক্রেমলিনের তরফে অবশ্য এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।